নেতৃত্বে থাকছেন তো মিরাজ!

Printed Edition
khela-1
নেতৃত্বে থাকছেন তো মিরাজ!

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নেতৃত্বের সমীকরণ আবারও পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে! মাত্র এক বছর আগে ওয়ানডে দলের দায়িত্ব পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে নতুন অধিনায়ক নিয়োগের আলোচনা এখন জোরালো। বিসিবি ওয়ানডে নেতৃত্বে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে এবং এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে বর্তমান টি-২০ অধিনায়ক লিটন দাস।

আজ বিসিবির বোর্ড সভাকে ঘিরেই মূলত এই আলোচনা তীব্র হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সভাতেই ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যদি সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে একই অধিনায়কের অধীনে দু’টি সংস্করণ পরিচালিত হবে, আর টেস্টে নেতৃত্বে থাকবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। লাল বল ও সাদা বলের নেতৃত্ব আলাদা রাখার যে পরিকল্পনার কথা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল, সেটিই বাস্তব রূপ পেতে পারে।

মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তও একসময় কম বিতর্কের জন্ম দেয়নি! ২০২৫ সালের জুনে যখন শান্তর পরিবর্তে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়, তখন প্রশ্ন উঠেছিল সেই পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে। কারণ, শান্তর নেতৃত্বে দল ধারাবাহিকভাবে খারাপ করছিল না। তবে বোর্ড ভবিষ্যতের কথা ভেবেই অলরাউন্ডার মিরাজের ওপর আস্থা রেখেছিল। পরিসংখ্যানও মিরাজের পক্ষে পুরোপুরি কথা বলছে না। এখন পর্যন্ত তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ১০টিতে, হার ১৩টিতে এবং একটি ম্যাচ টাই হয়েছে। বিশেষ করে দেশের বাইরে ১৩টি ওয়ানডেতে মাত্র দু’টি জয় নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মিরাজের অধীনে শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক না হলেও সময়ের সাথে দল কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তার পরও সাম্প্রতিক জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজ হার নতুন করে তার নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মাঠের কৌশল, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে সমালোচনাও বাড়তে থাকে। যদিও কেবল একটি সিরিজের ফল দিয়ে নেতৃত্ব মূল্যায়ন করা কঠিন, তবু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক ফলই শেষ পর্যন্ত বিবেচ্য হয়।

অন্য দিকে লিটন দাসকে সামনে আনার পেছনে কেবল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরির চিন্তাও কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। টি-২০ দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সীমিত ওভারের দুই সংস্করণে একই নেতৃত্ব থাকলে পরিকল্পনা ও দল গঠনে সমন্বয় বাড়বে- এমন যুক্তিও সামনে আসছে।

এই সমীকরণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম তৌহিদ হৃদয়। টি-২০ তে লিটনের সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই ব্যাটার লিটনের অনুপস্থিতিতে জিম্বাবুয়ে সফরে দলকে সিরিজ জিতিয়েছেন। ফলে ওয়ানডেতেও তাকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে নেতৃত্বের উত্তরসূরি তৈরির দিকেও বোর্ড একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেবে। গুঞ্জন রয়েছে সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে আবার ওয়ানডে নেতৃত্বে ফেরানোর বিষয়টি। তবে শেষ পর্যন্ত সীমিত ওভারের ক্রিকেট এবং টেস্টের নেতৃত্ব আলাদা রাখার পরিকল্পনাই প্রাধান্য পাচ্ছে। সেই কারণেই লিটন দাস আপাতত সবচেয়ে এগিয়ে।

এখন সব নজর বিসিবির বোর্ড সভার দিকে। কারণ, এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন অধিনায়ক পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আগামী কয়েক বছরের জন্য বাংলাদেশের নেতৃত্বের রূপরেখাও নির্ধারণ করে দিতে পারে।