নির্বাচনী ইশতেহার নাগরিক অধিকার স্পষ্ট করার তাগিদ

Printed Edition
Nagar-2
সিরডাপ মিলনায়তনে সিজেএসের পলিসি ডায়ালগে অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, সংখ্যালঘু পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা ও নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়নযোগ্যতা এ তিনটি বিষয় ঘিরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও শিাবিদদের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ উঠে এসেছে। বক্তারা আলোচনায় সংখ্যালঘু পরিচয় না দেখে নাগরিক অধিকার ও নির্বাচনী ইশতেহার স্পষ্ট করার তাগিদ দিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার’ শীর্ষক সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক আলোচনায় বক্তারা এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

সিজিএসের প্রেসিডেন্ট হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা বিভিন্ন সময়েই নির্যাতিত হয়েছে। তার পরও ঢালাওভাবে মনে করা হয়ে থাকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। যদিও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতীতে সেই দলের নেতাকর্মীদের দ্বারাই সংখ্যালঘুরা বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছেন। অন্য দলগুলোর সংখ্যালঘুর প্রতি আস্থা ফেরাতে না পারা একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা। আগামীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে এই ধারণা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটি হচ্ছে না।

আলোচনায় খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি নিজেই এক ধরনের অমর্যাদা বহন করে। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অনেক দল সংখ্যালঘু হতে পারে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংখ্যালঘু আখ্যা দেয়া বিভাজন বাড়ায়।

এনডিএম মহাসচিব মোমিনুল আমিন বলেন, ‘সংখ্যালঘু প্রশ্নে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি হয়েছে। রাজনৈতিক কমিটমেন্ট না থাকলে কোনো সংস্কারই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। নির্বাচনে সব শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ তৈরি না হয়।’

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে শুরু থেকেই একটি অংশকে কেন্দ্র করে অন্য অংশকে প্রান্তিক করেছে। জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাক্সা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ গার্মেন্টশ্রমিক সংহতির প্রধান ও গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য তাসলিমা আখতার বলেন, ‘সংবিধানে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সবাই সেই সুযোগ পায় না। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য নাগরিক মর্যাদা ক্ষুণœ না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংখ্যালঘুদের কথাও ভাবতে হবে। নির্বাচনে অর্থের প্রভাব ও ভোট কেনার প্রবণতা অন্তর্ভুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে।’ সামাজিক চুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বিভাজনের বাইরে গিয়ে মৌলিক পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে।’ বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনী অঙ্গীকার একটি লিখিত সামাজিক চুক্তির মতো। মতায় গিয়ে সেই চুক্তি রা না করলে গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন এক দিনের বিষয় নয়; ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে নির্বাচিত সরকারের কার্যক্রম পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই গণতন্ত্রের মান নির্ধারণ করে।’