পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ৫ বছর পূর্তি

রবির কর-পরবর্তী মুনাফা ২৯ শতাংশ বেড়েছে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২০ সালে তালিকাভুক্তির পর থেকে রবির নেটওয়ার্কে ৭৬ লাখ ৭০ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে এক কোটি ১০ লাখ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং দুই কোটি ৫৫ লাখ নতুন ফোরজি ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছে। ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাজারে সর্বোচ্চ সংখ্যক সক্রিয় গ্রাহক যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে রবি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই রাজস্ব এবং কর-পরবর্তী মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও রবি তার এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় কর-পরবর্তী মুনাফা ২৯ শতাংশ বেড়েছে।

আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান, রবি আজিয়াটার এমডি ও সিইও জিয়াদ সাতারা।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকেই আমাদের শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। প্রায় পাঁচ বছর পর এখন সেই প্রত্যাশা ও আমাদের অর্জন মূল্যায়নের সময় এসেছে। এই সময়ে খাতটির নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে গেছি এবং শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছি। জিয়াদ সাতারা বলেন, ভবিষ্যতে আমাদের ব্যবসায় এআইয়ের ভূমিকা আরো বাড়বে। তবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে আমাদের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিল শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন। গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, সাইবার হুমকি মোকাবেলা এবং নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আমরা শক্তিশালী ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো গড়ে তুলেছি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি ৮৬ লাখ। এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ৭২ শতাংশ ফোরজি ব্যবহারকারী, যা উভয় ক্ষেত্রে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ। রবিতে প্রতি ডেটা ব্যবহারকারীর মাসিক গড় ডেটা ব্যবহার ১০ জিবিরও বেশি, এটিও এ খাতে সর্বোচ্চ। এসব অর্জনের ফলে ডিজিটাল সেবায় রবি টেলিযোগাযোগ খাতে নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে প্রতি বছরই কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) বেড়েছে। ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রবি মোট দুই হাজার ৮১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে দুই হাজার ৮৫৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লভ্যাংশ বিতরণ করেছে। কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে লভ্যাংশও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালে রবির সুদ, কর, অবচয় ও অ্যামর্টাইজেশন- ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বেড়ে ৫৪.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০২০ সালে রবির মোট রাজস্বের ৩৬ শতাংশ এসেছিল ডেটা সেবা থেকে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা বেড়ে ৪৪.৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ভয়েস আয়ের প্রায় সমান। রবির বিডিঅ্যাপস প্ল্যাটফর্ম তরুণ বাংলাদেশীদের জন্য অ্যাপ তৈরি ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলে অনুষ্ঠানে একটি ধারণা দেয়া হয়। বলা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন রবির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। মাই রবি ও মাই এয়ারটেলঅ্যাপের মাধ্যমে দুই কোটি ২৮ লাখ গ্রাহক সেবা নেন।