ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো সেই ওবায়দুর এখন ওসি

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
Printed Edition
bangla-3
ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো সেই ওবায়দুর এখন ওসি

জুলাই বিপ্লবের ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বর্তমানে পদায়ন পাওয়া ঈশ্বরগঞ্জ থানার বর্তমান ওসি মো: ওবায়দুর রহমান। এ সময় তার নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর এই ওসি (তদন্ত) থেকে পদোন্নতি পেয়ে হয়ে যান ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি। গত ৩ সেপ্টেম্বর (২০২৪) ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, ফুলবাড়িয়া থানার তৎকালীন ওসি রাশেদুজ্জামানের নির্দেশনায় এবং ওসি (তদন্ত) ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে অনেক ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। পঙ্গুদের একজনের নাম আরিশ আহমেদ (১৫)। তার বাড়ি ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল গ্রামে। বাবার নাম কৃষক আশরাফুল ইসলাম। আরিশের ডান চোখ গুলিবিদ্ধ হয়। চোখটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই চোখে আরিশ আর কখনো দেখতে পারবে না। আরিশ জানায়, তার চোখ, মাথা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৩টি গুলি লেগেছিল। এর জন্য থানার তৎকালীন প্রতিটি পুলিশ সদস্যই দায়ী।

আরিশের বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার ছেলে একটা চোখ হারিয়েছে। ফুলবাড়িয়া থানার তৎকালীন ওসি এবং ওসি তদন্তসহ সব পুলিশ সদস্য ঘটনার সাথে জড়িত ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব ওয়ালিদ আহমেদ অলি বলেন, আন্দোলন চলাকালে ফুলবাড়িয়া থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান আওয়ামী দোসরদের সাথে নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়েছি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তিনি আওয়ামী নেতাদের গ্রেফতার এড়াতে মোটা অঙ্কের টাকার বাণিজ্য শুরু করেছেন। মাদক, জুয়া, ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছেন। সেই সাথে অবনতি হচ্ছে এ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির।

ওসি ওবায়দুর রহমান আইনশৃঙ্খলার অনবতির কথা অস্বীকার করে বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন ও ধর্ষণ মামলার আসামিসহ অপরাধীদের গ্রেফতারে থানা-পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।