ডাচদের দুর্ভাগ্য ভর করল জার্মানির ওপরও
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক নিউ ইয়র্ক থেকে
‘টাইব্রেকারে জিততে ভাগ্য নয়, যোগ্যতা লাগে।’ ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর এ মন্তব্য করেছিলেন নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ওয়েলসি স্লাইডার। তাহলে কি আসলেই টাইব্রেকারে গোল করার যোগ্যতা বা দক্ষতা কোনোটিই নেই নেদারল্যান্ডসের। এখন তো বলতেই হবে এই স্পট কিকে গোল করতে আসলেই ব্যর্থ তারা। তা না হলে কিভাবে তারা একের পর এক বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এভাবে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। এ পর্যন্ত তাদের খেলা পাঁচবার গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। এর মধ্যে চারবারই তাদের স্বপ্নভঙ্গ এই ৫ শটের স্পট কিকে হেরে। এর মধ্যে টানা দু’বার। এই চারবারের মধ্যে দু’বারই হার আর্জেন্টিনার কাছে। তবে এর ঠিক উল্টো চিত্র ছিল জার্মানির জন্য। তারা আগে কখনই বিশ্বকাপের ম্যাচে টাইব্রেকারে হারেনি। এবার ডাচদের দুর্ভাগ্য ভর করল জার্মানদের ওপরও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতো হলো।
এবারের আসরে সেরা ৩২-এর চার ম্যাচের দু’টি গড়িয়েছে টাইব্রেকারে। দু’টিতেই হার দুই ইউরোপিয়ান হট ফেবারিটের। নেদারল্যান্ডস কখনই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। তবে তিনবারের ফাইনালিস্ট। সর্বশেষ ফাইনালে তারা খেলেছিল ২০১০ সাল। আর জার্মানি ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল।
ফুটবলে ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু হয় এই টাইব্রেকার প্রথা। এই স্পট কিকে নেদারল্যান্ডস সর্ব প্রথম হারের মুখ দেখে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে। সেই আসরে তারা সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-৪ গোলে হেরেছিল। এরপর ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফের তাদের এই পেনাল্টি শ্যুট আউটে হারের লজ্জা পেতে হয়েছিল আর্জেন্টিনার কাছে। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর দু’টি সেভের ফলেই লিওনেল মেসির দল ৪-২ গোলে হারিয়েছিল নেদারল্যান্ডসকে।
এরপর ২০২২ ফের একইভাবে লাতিন আমেরিকার দেশ অর্জেন্টিনার কাছে হারতে হয়েছিল ডাচদের। এবার আর্জেন্টিনার গেলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দৃঢ়তায় তিনবারের বিশ্ব জয়ীরা হারায় তাদের। এই ম্যাচে টাইব্রেকারের স্কোর ছিল ৪-৩। সেই ধারায় এবারো হার। আগের হারগুলো ছিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কাছে। এবার তাদের এই স্পট কিকে হারটা মরক্কোর কাছে। এবারের হারটা ২-৩ গোলে। ডাচদের বিপক্ষে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির টাইব্রেকার শট মিস করার পর মনে হচ্ছিল এবার ধারা ভেঙে টাইব্রেকারে জিতবে নেদারল্যান্ডস। অথচ সেটাও হলো না। তাদের সামারভিলের টাইব্রেকার শট রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। ফলে এরপরই ইসমাইল সাইবরির শট জালে গেলে মরক্কো সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস শুরু হয় স্টেডিয়ামে।
নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে একবারই টাইব্রেকার জিতেছিল। তা ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। সেবার তাদের জয় ছিল হন্ডুরাসের বিপক্ষে।
জার্মানি এবারের আাসরের আগ পর্যন্ত চার টাইব্রেকারে জিতেছিল। তাদের প্রথম জয়টা ১৯৮২ সলের স্পেন বিশ্বকাপে। সেমিফাইনালে তাদের জয় ছিল ফ্রান্সের বিপক্ষে। ১৯৮৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের এই স্পট কিকে জয় ফ্রান্সেরই বিপক্ষে। ১৯৯০-এর ইতালি বিশ্বকাপে জার্মানির এই টাইব্রেকারে জয় পাওয়ার ঘটনা ছিল ইংল্যান্ডে বিপক্ষে। এ ছাড়া ২০০৬ সালে জার্মাান কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। আগের এই চার ম্যাচে টাইব্রেকারে জয়ের ধারায় এবার আর থাকা হয়নি জার্মানদের। তাদের হারিয়ে দেয় প্যারাগুয়ে। ঠিক যেভাবে ডাচরা বিদায় নিয়েছিল সেভাবেই।