সিলেটে প্রাথমিকে পৌঁছেছে শতভাগ মাধ্যমিকে ৬৯% বই
এবারো হচ্ছে না ‘বই উৎসব’
Printed Edition
সিলেট ব্যুরো
আজ নতুন বছরের প্রথম দিন। এবারো বছরের শুরুতে হচ্ছে না ‘বই উৎসব’। তবে সীমিত আয়োজনে নতুন বই পাবেন শিক্ষার্থীরা। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিবেন নতুন বই। আনন্দে মেতে উঠবে শিক্ষার্থীরা।
এ বছর সিলেট বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল ও কারিগরি শাখার সাড়ে ২৮ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এক কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪টি বই বিতরণ করা হবে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য চাহিদা ছিল এক কোটি ৯১ লাখ ১১ হাজার ৮৪২টি বই। প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই এলেও মাধ্যমিক স্তরে বই পৌঁছেছে প্রায় ৬৯ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সিলেট বিভাগের সাড়ে ১৬ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৩টি বইয়ের বিপরীতে শতভাগ বই নিজ নিজ উপজেলায় ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। এসবের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ৫৮ লাখ ১২ হাজার ২৪৪টি এবং ইংরেজি ভার্সন স্কুলের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর জন্য ৭২ হাজার ৭৭৯টি বই রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর-মাউশি সিলেট অঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের মাধ্যমিক, মাদরাসা ও ভোকেশনালের ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক কোটি ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৮১৯টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত পৌঁছেছে ৯৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৬টি বই। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্কুলের জন্য ৮৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৬৭টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পৌঁছেছে ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার ১০৯টি বই। মাদরাসার ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৭০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পৌঁছেছে ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৭১৯টি বই। ভোকেশনালের দুই লাখ ৩০ হাজার ১৮২টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পৌঁছেছে এক লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮টি বই। সব মিলিয়ে সিলেট অঞ্চলে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও ভোকেশনালের বই পৌঁছেছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। ফলে ৩১ শতাংশ বই থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে সিলেট অঞ্চলের ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে।
এদিকে মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বছরের শুরুতে কোনো শিক্ষার্থী খালি যাবে না। শিক্ষার্থীরা ৩-৪টা করে ভিন্ন বিষয়ের বই হাতে পাবে না। তবে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা সব বই পেয়ে যাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০০৯ সালে। পরের বছর ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি প্রথমবার বই উৎসব করে তৎকালীন সরকার। এরপর টানা ১৫ বছর শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিনে উৎসব করে পাঠ্যবই তুলে দেয়া হয়েছে। দেড় দশকের সেই রীতিতে ভাটা পড়ে অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের সময়ে। ‘অপ্রয়োজনীয় খরচ’ এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার ঘটা করে বই উৎসব বাতিল করে। নানা সঙ্কটের কারণে গেল বছরও সব বই পেতে শিক্ষার্থীদের দুই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে এবার সব বই হাতে না পেলেও ইতোমধ্যে সব বই অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রয়োজনীয় পাঠের বই ডাউনলোড করে কিছুটা হলেও উপকৃত হতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের চারটি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৩টি বই বিতরণ করা হবে। যার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ২ লক্ষ ২৫ হাজার জন, ১ম শ্রেণীতে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার জন, ২য় শ্রেণীতে ২ লক্ষ ৯০ হাজার জন, ৩য় শ্রেণীতে ২ লক্ষ ৭০ হাজার জন, ৪র্থ শ্রেণীতে ২ লক্ষ ৮০ হাজার জন ও ৫ম শ্রেণীর ২ লক্ষ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীদের সকল বই ইতোমধ্যে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এ বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন তাই এমনিতেই স্বাভাবিক লেখাপড়ায় বিঘœ ঘটবে। এর মধ্যে যদি জানুয়ারি মাসে পুরো বই হাতে না আসে লেখাপড়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গত বছর থেকে ছাপা সমস্যা লেগেই আছে। সরকারের সংশ্লিষ্টদের উচিত এই দিকে বিশেষ নজর দেয়া।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সিলেটের উপপরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম তালুকদার দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, এ বছর অনেক আগে বই পৌঁছে গেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বই চলে গেছে। বছরের প্রথম দিনেই প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছে যাবে নতুন বই। এবার উৎসব না হলেও বছরের প্রথম দিনে নিজ নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সীমিত পরিসরে আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর-মাউশি সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবু সায়ীদ মো: আব্দুল ওয়াদুদ দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলের মাধ্যমিকের প্রায় ৬৯ শতাংশ বই পৌঁছে গেছে। প্রতিদিনই বই আসছে। সেসব উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বছরের প্রথম দিনে ঘটা করে অনুষ্ঠান না হলেও বই বিতরণ করা হবে। শহর এলাকায় সীমিত পরিসরে আয়োজন থাকবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর-মাউশি সিলেট অঞ্চল পরিচালক ড. মো: আব্দুল কাদির দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, বিভিন্ন কারণে বই ছাপায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
ইতোমধ্যে সিলেট অঞ্চলে প্রায় ৭০ ভাগ বই পৌঁছে গেছে। আমাদের প্রত্যাশা জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সব বই পৌঁছে যাবে।