ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও জাল তৈরি

মূলহোতা ভারতীয় নাগরিকসহ ৬ বাংলাদেশী কারিগর আটক

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির মূলহোতা ভারতীয় নাগরিকসহ ছয়জন বাংলাদেশী কারিগরকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সম্প্রতি কিছু অসাধু মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারি নিষেধ অমান্য করে কাঠের ফিশিং বোটে অবৈধভাবে ট্রলিং সরঞ্জামসহ ছোট ফাঁসের বেহুন্দি জাল স্থাপন করে আর্টিসানাল ট্রলিং বোটে রূপান্তর করছে। এসব ছোট ফাঁসের জালে আটকে পড়ে গভীর ও অগভীর সাগরের রেণু, ডিমওয়ালা মা মাছ ও মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বিগত চার বছরে আশঙ্কাজনকভাবে মাছের প্রজনন কমে গেছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়ছে সাধারণ জেলেরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন চর পাথরঘাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি ফ্যাক্টরিতে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম ও ট্রলিং জাল তৈরির কাজ চলছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ৭ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় কোস্টগার্ড বেইস চট্টগ্রাম কর্তৃক ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই ফ্যাক্টরিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি অবৈধ ট্রলিং জাল ও জাল তৈরির সরঞ্জামসহ ট্রলিং বোট তৈরির মূল কারিগর ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাসকে আটক করা হয়। এ সময় আটক হয় ছয়জন বাংলাদেশি কারিগর। ট্রলিং জাল তৈরির মূলহোতা ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাস (৩৯) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে বাংলাদেশে অবস্থানকালে বাংলাদেশী ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসনাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন এবং ট্রলিং জাল তৈরির মূল কারিগর হিসেবে কাজ করে। উল্লিখিত ভারতীয় নাগরিক সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশে ভ্রমন ভিসায় আগমন করে। এ ছাড়াও সে ইতঃপূর্বে বহুবার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বরগুনার পাথরঘাটায় মাসুম কোম্পানি, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শুক্কুর, ইসমাঈল ও জাহাঙ্গীর কোম্পানিতে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন এবং ট্রলিং জাল তৈরির কাজ করে আসছে। ফলে, সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে ট্রলিং বোট ও জালের বিচরন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ আগস্ট কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাসকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কিছু অসাধু ট্রলিং জাল ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীর শুক্কুর কোম্পানি এবং জাহাঙ্গীর কোম্পানির সরাসরি হস্তক্ষেপে খুবই অল্পসময়ের মধ্যে সে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায়। আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকরা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, পণ্ডিত বিশ্বাস জামিনে মুক্তি পেয়ে আগের মতো আরো বৃহৎ পরিসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসনাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন এবং ট্রলিং জাল তৈরির কাজ শুরু করে।

জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মৎস্যসম্পদ রায় কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।