বাংলাদেশের নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী : ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রথার
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেছেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী। তারা একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এর আগে সকালে ইভার্স ইজাবস সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ পরিদর্শন করেন।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, আজ দুপুর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সকালের মতো বিকেলের শেষ সময় পর্যন্ত ভোটারদের এ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসাহের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণের এ ব্যাপক উপস্থিতির গুরুত্ব অপরিসীম।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ নই। বর্তমানে সারা দেশে আমাদের পর্যবেক্ষকরা ছড়িয়ে রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অনলাইন প্রতিবেদন ও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ তথ্যগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, যাতে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।
ইভার্স ইজাবস জানান, আমাদের কাজ মূলত পর্যবেক্ষণ করা এবং তথ্য সংগ্রহ করা, যাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা যায়। নির্বাচন পরিচালনার গুণমান এবং সার্বিক প্রক্রিয়া নিয়ে ইইউ মিশন খুব শিগগির তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে এ নির্বাচনটি ঠিক কিভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের চিত্র কেমন ছিল তার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্যরা কার্জন হল কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখেন এবং এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ভোটগ্রহণের অগ্রগতি সম্পর্কে খেঁাঁজখবর নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছে ইইউ। গত ২৯ ডিসেম্বর ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের ১১ জন বিশ্লেষকের সমন্বয়ে গঠিত কোর টিম ঢাকা পৌঁছায়। ১৭ জানুয়ারি ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে মিশনের তৎপরতা ৬৪ জেলায় সম্প্রসারিত হয়। গত মঙ্গলবার ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষককে দেশের কৌশলগত স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। পূর্ণ সক্ষমতার এ মিশনে ইইউর ২৭টি দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্বাচনের দুই মাস পর সুপারিশসহ মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ ছাড়াও এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফরেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে ২৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১৯ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে এসেছেন। এ ছাড়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) থেকে দু’জন, ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি) থেকে দু’জন এবং ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস থেকে একজন প্রতিনিধি এসেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ২১টি দেশ থেকেও পর্যবেক্ষকরা এসেছেন। এর মধ্যে তুরস্ক থেকে ১৩ জন, শ্রীলঙ্কা থেকে ১১ জন, পাকিস্তান থেকে আটজন, মালয়েশিয়া থেকে আটজন, জাপান থেকে চারজন, নাইজেরিয়া থেকে চারজন, ইরান থেকে তিনজন, ইন্দোনেশিয়া থেকে তিনজন, ভুটান থেকে দু’জন, ফিলিপাইনস থেকে দু’জন, জর্ডান থেকে দু’জন, জর্জিয়া থেকে দু’জন, রাশিয়া থেকে দু’জন, চীন থেকে দু’জন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দু’জন, কিরগিজস্তান থেকে দু’জন, উজবেকিস্তান থেকে দু’জন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দু’জন এবং নেপাল থেকে একজন পর্যবেক্ষক এসেছেন।
এ ছাড়া ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন ও পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন।
নতুন সরকারকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ : ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার গতকাল ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে লিখেছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। দেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয় নয়, এটি নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতে কতটা দৃঢ়ভাবে বিনিয়োগ করবে। সে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শিশুদের ওপর নির্ভর করছে।