২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবি
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে লোমহর্ষক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে : ফখরুল
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
দুষ্কৃতকারীদের কঠোর হস্তে দমনের দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবারো দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের নির্মম ও পৈশাচিক হামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির নিহতের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এই ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে। তাই এসব দুষ্কৃতকারীকে কঠোর হস্তে দমনের বিকল্প নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রায় দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নইলে ওঁৎ পেতে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠবে।
বিএনপি মহাসচিব বিবৃতিতে আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান এবং নিহতের রূহের মাগফিরাত কামনাসহ শোকার্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবি : আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।
গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুছাব্বিরের নামাজে জানাজার আগে দলটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসীন আলী ও সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মুছাব্বিরের হত্যাকারী দুষ্কৃতকারীদের আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি। এই গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে মহানগর ও জেলায় বিােভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এর মধ্যে মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে স্বেচ্ছাসেবক দল কঠোর কর্মসূচি দেবে।
বাদ জোহর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় মুছাব্বিরের কফিন। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, এস এম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দেিণর সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসীন আলীসহ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
জানাজার আগে সংপ্তি বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তারা যারাই হোক অবিলম্বে তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমি সরকারকে বলতে চাই আপনারা বলেছেন, আপনারা নির্বাচন করবেন। আমরা আপনাদের কথায় বিশ্বাস করছি, আপনারা নির্বাচনের তারিখ দিয়েছেন আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি।
হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে আমরা নির্ধারিত সময়েই জনগণের সরকার জনগণের ভোটের মাধ্যমেই আমরা নির্বাচিত করব, কোনো ষড়যন্ত্রই সেই পথে বাধা হতে পারবে না। ইনশা আল্লাহ আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান এখন আমাদের মাঝেই আছে।
স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু বলেন, মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী দলের একজন সাহসী কর্মী ছিলেন। তার এই হত্যাকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না।
মহানগর উত্তরের সদস্য আমিনুল হক বলেন, একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার জন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে।
ঢাকা মহানগর দেিণর সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন মুছাব্বিরেরে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলবো, আপনারা মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করুন, নইলে আমরা খুঁজে বের করবো। এই হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।