শান্তিপূর্ণ ও ঈদের আমেজে ভোট সম্পন্ন

ঢাকায় বিভিন্ন আসনের চিত্র

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ঢাকায় বিভিন্ন আসনে উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও ঈদের আমেজে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও অভিযোগ ছাড়া বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি। আমাদের প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর-

ঢাকা-১০ আসনে উৎসবমুখর পরিবেশ

রাজধানীর ঢাকা-১০ আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে ভোটাররাও খুশি। এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোটগ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।

সরেজমিন বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ভোট শুরু হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই ভোটারের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটাররা কেন্দ্রের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। কেউ একা, কেউ বন্ধু বান্ধবের সাথে, কেউ বা পরিবারের সদস্য নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কেন্দ্রের প্রবেশপথে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তারা লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন।

ফরিদুল ইসলাম নামে এক ভোটার বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগছে। তাই সকাল সকাল ভোট দিতে চলে এসেছি কারণ পরে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। এসে দেখি আইনশৃঙ্খলার কোনো সমস্যা নেই। আর ভেতরের পরিবেশও ভালো। সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারছি এটাই আসল বিষয়।

এই আসনে ১০ জন প্রার্থী থাকলেও বিএনপি, জামায়াত ছাড়া অন্য দল ও প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট তেমন একটা চোখে পড়েনি। কিছু কেন্দ্রে শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে একজন পোলিং এজেন্টের দেখা মিলে। নিউ মডেল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ১ নম্বর কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার শওকত দেশ বলেন, বেশির ভাগ দল ও প্রার্থী তাদের পোলিং এজেন্টের নাম দেয়নি। যারা দিয়েছেন তাদের এজেন্ট আছেন।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর ঢাকা-১০ আসনের গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণ আনন্দ নিয়ে ভোট দিতে আসছে। মনে হচ্ছে, জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে। তারেক রহমান হ্যাঁ ভোট বললেও তাদের অনেক নেতাকর্মী না ভোটের প্রচারণা করছে। এটা তাদের রাজনৈতিক দ্বিচারিতা।

ঢাকা-১০ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১০ জন প্রার্থী হলেন-ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শেখ রবিউল আলম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) হাতি প্রতীকে মো: আবু হানিফ হৃদয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মো: আবদুল আউয়াল, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো: জসীম উদ্দীন সরকার। বাংলাদেশ লেবার পার্টির পক্ষে আনারস প্রতীকে আবুল কালাম আজাদ, এবি পার্টির পক্ষে ঈগল প্রতীকে নাসরীন সুলতানা, জাতীয় পার্টির পক্ষে লাঙল প্রতীকে বহ্নি বেপারী, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের পক্ষে ছড়ি প্রতীকে মো: আনিছুর রহমান, আমজনতার দলের পক্ষে প্রজাপতি প্রতীকে আব্দুল্লাহ আল হুসাইন এবং জনতার দলের কলম প্রতীকে মো: জাকির হোসেন।

ঢাকা-১১ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোট

ঢাকা-১১ আসনে সারা দিনই ভোটের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একই ছন্দে ভোট পড়েছে ব্যালট বাক্সে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা এবং এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে এবং বিএনপি নেতা সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ড. এম এ কাইয়ুম ধানের শীষে। এই আসনে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনীর সদস্য সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়েছেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা-১১ আসনের সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। তবে সাতারকূল-বেরাইদ এলাকায় কিছু কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছিল প্রতিপক্ষ। সেনাবাহিনীকে খবর দিলে তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। তবে রামপুরা, বাড্ডা এলাকার মেইন রোডের আশপাশে সর্বত্র ভালো ভোট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বেলা ১টার দিকে বাড্ডা আলাতুন্নেছা স্কুল পরিদর্শন করতে যান। এই স্কুলেও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে, ভোটার উপস্থিতিও বেশ ভালো ছিল।

বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা-১১ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা-১১ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। গতকাল এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম তার আসনে অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন। তিনি যেখানে গিয়েছেন সেখানেই তরুণ ও তরুণী ভোটাররা তাকে ঘিরে ধরে, কুশল বিনিময় করে। তারা তার সাথে সেলফিও তুলেছে। এই আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২ ও ২৩ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

এই প্রতিবেদক বাড্ডা এলাকার কমপক্ষে ১০টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে ধানের শীষের প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতি দেখেছেন কিন্তু কোথাও ড. আব্দুল কাইয়ুমকে দেখা যায়নি। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে শাপলাকলি প্রতীকের লোকজনের চেয়ে ধানের শীষের লোকজন বেশি সক্রিয় ছিল। তবে প্রতিটি কেন্দ্রে এই দুই প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছিল।

পুরান ঢাকায় ভোট উৎসব

প্রায় ১৭ বছর পর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিদায়ের পর পুরাতন ঢাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ভোট উৎসব পালন করেছে। এসময় ভোট দেয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কেউ কেউ কেন্দ্রের ভেতরেই সেলফি তোলেন। আবার কেউ ফাঁকা সড়কে ঘোরাঘুরি করেন। কেউ আবার মজাদার খাবার খেয়ে দিনটি পার করেন। এদিন কোতোয়ালি ও লালবাগ মিলিয়ে ঢাকা-৭ আসনের কেন্দ্রগুলোর কোথাও কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা তো দূরের কথা, একে অপরের সাথে উচ্চবাচ্যের মতো ঘটনাও ঘটেনি। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যা পর্যন্ত এই আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও কেউ কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ করেছেন এমনটি শোনা যায়নি। সবাই একবাক্য বলছেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর জন্য তারা সবাই সন্তুষ্ট।

নির্ধারিত সময়ে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসাররা নয়া দিগন্তকে বলছেন, এবার কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই সুন্দরভাবেই ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন তারা আশা করছেন, ভোট গণনার কাজও সুন্দরভাবে শেষ করতে পারবেন তারা।

গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরাতন ঢাকার-৭ আসনের সীমানায় থাকা নাজিমুদ্দিন রোডের শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ, উর্দু রোডের মা ও শিশু হাসপাতাল, কামরাঙ্গীরচর কুড়ারঘাট ৩ রাস্তার মোড়, কোতোয়ালি থানাধীন বংশালের হাজী মাজহারুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র সরেজমিন খোঁজ নিতে গেলে দেখা যায়, প্রার্থীদের হয়ে কাজ করা নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি থেকে ভোটারদের রিকশায় তুলে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে। কেউ আসেন হেঁটে। ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর পরও তাদের মধ্যে কোনো ধরনের বিরক্তি দেখা যায়নি। সবাই ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেছেন। এ সময় অনেককেই দেখা যায়, ভোট দিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে সেজেগুজে আসা ভোটাররা মোবাইলে সেলফি তুলছেন। কেউ আবার পরিবারের সাথে ছবি তুলছেন। এ সময় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে, পুলিশ, আনসার, এজেন্ট, বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স সেনাবাহিনীর তৎপরতায় ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব কারণে কোনো কেন্দ্রেই এদিন ঘটেনি কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। পুরাতন ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দেখা গেছে, মানুষ দলবেঁধে ভোট দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে গিয়ে মজাদার খাবার খেতে ভিড় করেন। এর মধ্যে পোলাওয়ের দোকানে ভিড় বেশি দেখা যায়। অনেকে আবার ব্যক্তিগতভাবে দুপুরের খাবারের আয়োজন করেন। এসব দেখে সবাই ঈদের আমেজে ফিরে গিয়েছিলেন একদিনের জন্য।

এবার ত্রয়েদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ঢাকা-৭ আসন থেকে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দাঁড়িপাল্লা মার্কায় জামায়াতে ইসলামীর হাফেজ হাজী মো: এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতীকে হামিদুর রহমান, ফুটবল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহম্মদ ইসহাক সরকার, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনসহ মোট ১১ জন প্রার্থী।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাজী মো: এনায়েত উল্লাহ গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নয়া দিগন্তকে নির্বাচনের সার্বিক অবস্থার বিষয়ে শুধু বলেন, খুব সুন্দর নির্বাচন হচ্ছে। এভাবে বেলা ২টা আড়াইটা পর্যন্ত চললে আমি আশাবাদী। কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে থাকা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান মাইক্রোবাসে বসেই নয়া দিগন্তকে বলেন, এখন পর্যন্ত কোন জায়গায় কোন ধরনের সমস্যার কথা শুনিনি। এখন পর্যন্ত সব ঠিকভাবেই তো চলছে দেখছি। এর আগে শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক সরকার ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তার জয়ের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে তার হয়ে যারা কাজ করা নেতাকর্মীদের ঠিকভাবে কাজ করার দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন। শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজ ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো: রেদোয়ান দুপুরের পর নয়া দিগন্তকে বলেন, ভোটারের চাপ যেভাবে বাড়ছে তাতে এই কেন্দ্রে ৬০ শতাংশ ভোট কাস্ট হতে পারে। এ সময় তিনি বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ভোটাররা কেন্দ্রে প্রবেশ করলে তাদের সবাইকে আমরা ভোট দেয়ার সুযোগ দেবো।

পুরাতন ঢাকার চানখাঁরপুলের ব্যবসায়ী ওয়াদুদ নয়া দিগন্তকে বলেন, যে দল জয়ী হউক, তাতে আমার কোনো দুঃখ নাই। তবে অনেকদিন পর সুন্দর একটা ভোটাভুটি দেখলাম। সেনাবাহিনীর টহল ছিল চোখের পড়ার মতো। এদিন কোনো মারামারি দেখি নাই, চিল্লাচিল্লি দেখি নাই। সবাই উৎসবের মধ্যেই পরিবার নিয়ে ভোট দিয়েছেন। বংশাল ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মাজহারুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার নয়া দিগন্তকে বলেন, খুব সুন্দর ভোট গ্রহণ শেষ করলাম। আমার ১১১ নম্বর কেন্দ্রে (নারী) বিকেল ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ৪৭ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ১৯৪৬। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত আমার কাছে একটি সিংগেল ফোনও আসেনি। সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের বলে রেখেছিলেন, কোনো সমস্যা মনে করলে আমাদেরকে শুধু একটা ভয়েজ মেসেজ দেবেন। আমরা ৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসব।

পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ তাসনিম জারার

ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) তাসনিম জারা নানা অজুহাতে তার পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এটা গ্রহণযোগ্য না বলেছেন তিনি।

গতকাল সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তাসনিম জারা বলেন, বেশ কিছু জটিলতার মধ্যে আমাদের যেতে হচ্ছে। বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না বা বের করে দেয়া হচ্ছে। বানোয়াট কিছু নিয়ম বানিয়ে এসব অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে। কাউকে বলা হচ্ছে, ওরা তো এখানকার ভোটার না। এটা তো নিয়ম না। তারপর পুরুষ কেন্দ্রে নারী এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে। তারপর বলা হচ্ছে ফোন নিয়ে ঢোকা যাবে না। কিংবা ফোন নিয়ে ঢোকা যাবে, ব্যবহার করা যাবে না।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচিত তাসনিম জারা বলেন, আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে। অথচ মানুষ ভেতরে ভোট দিচ্ছে। এটা তো গ্রহণযোগ্য না।

কতটা কেন্দ্র থেকে অভিযোগ এসেছে জানতে চাইলে তাসনিম জারা বলেন, অনেকগুলো কেন্দ্র থেকে তারা এ ধরনের অভিযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে সকাল থেকেই ঢাকা-৯ আসনের (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল থেকেই এলাকার পুরুষ ও নারীরা ভোট দিতে কেন্দ্রে ভিড় করেন।

নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছুটে বেড়িয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ।

এই আসনটি (ঢাকা-৯) বিএনপির হাবিবুর রশীদ হাবিবের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচনায় ছিলেন তরুণ চিকিৎসক তাসনিম জারা। তবে তিনি পাশের আসন ঢাকা-১১ এর ভোটার। জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের সামনের কাতারে থাকা তরুণদের গড়া দল এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তাসনিম জারা। এ ছাড়া শাপলাকলি প্রতীকের (এনসিপি) প্রার্থী জাবেদ মিয়া।

ঢাকা-৮ আসনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা সত্ত্বেও ভোট সুষ্ঠু হয়েছে

ঢাকা-৮ আসনে গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দিনের শুরু থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয় এবং নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যে সারা দিন ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

ঢাকা-৮ আসনটি এবারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত আসন ছিল। এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং ১১-দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়েছে বলে জানানো হয় ।

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মির্জা আব্বাস বলেন, সার্বিকভাবে ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফলাফল প্রভাবিত করার কোনো চেষ্টা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান যেন ভোটের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়।

অন্য দিকে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী দিনের একপর্যায়ে অভিযোগ করেন যে, একটি কেন্দ্রে তার এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রেলওয়ে কলোনি হাই স্কুল কেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়ায় কেন্দ্রের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের কাছে তদন্ত দাবি করেন।

এ ছাড়া দুপুরের দিকে মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে আসেন এবং কিছু সময়ের মধ্যেই পরিবেশ স্বাভাবিক হয়। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন এবং এতে ভোটগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েনি।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। তবে সার্বিক মূল্যায়নে ঢাকা-৮ আসনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেই তারা মনে করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিনভর টহল জোরদার রাখে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে প্রস্তুত ছিল।

ঢাকা-৪ আসনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৮টা। ঢাকা-৪ আসনের অন্তর্গত জুরাইনের মিষ্টির দোকান এলাকার। টঙ দোকানে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে বসে আছেন কয়েকজন প্রবীণ। ভোট দিয়ে এসে সবেমাত্র আড্ডায় বসেছেন তারা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লেন। ১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরেছেন তিনি। স্মৃতিকাতর হয়ে বললেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছি, এটাই বড় শান্তি।’ তার কথায় পাশের চেয়ারে বসা অন্য মুরব্বিরাও সায় দিলেন। সবার চোখেমুখেই একটা তৃপ্তির ছাপ।

ঢাকা মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদরাসায় দু’টি কেন্দ্র, যেখানে ভোটারের সংখ্যা আট হাজারের বেশি। প্রিজাইডিং অফিসার মহসিন আহমেদ ও বঙ্কিম দাশ জানালেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই মানুষ লাইন ধরে ভোট দিচ্ছে। গলির রাস্তাটি বেশ সরু হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কড়াকড়ি। সিকিউরিটি সেকশন কমান্ডার শরীফুল ইসলাম কাউকেই অহেতুক দাঁড়াতে দিচ্ছেন না।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের তেজ বাড়লেও ভোটারদের লাইনের দৈর্ঘ কমেনি। জুরাইন থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশমুখেই রিজউয়াল করিম চৌধুরী কলেজ, স্থানীয়দের কাছে যার পরিচিত আর এ কে চৌধুরী কলেজ। সেখানে প্রিজাইডিং অফিসার সালাউদ্দিন আকাশ জানালেন, তার কেন্দ্রের দুই হাজার ৪২৪ জন ভোটারের মধ্যে উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অসঙ্গতির কোনো রেশ নেই সেখানে। এরপর আশরাফিয়া আরাবিয়া মাদরাসা হয়ে শেখ কামাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেল কিছুটা ভিন্ন চিত্র। প্রিজাইডিং অফিসার এস এম তাহমিদুল ইসলাম জানালেন, তার কেন্দ্রে তিন হাজার ৭০৬ জন ভোটার থাকলেও সকালের দিকে উপস্থিতি কিছুটা কম। দোলাইপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’টি কেন্দ্রে ভোটারদের বেশ ভালো উপস্থিতি দেখা যায়। ঠিক পাশেই কলেজ ভবন কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন হাতপাখার প্রার্থী মুসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বললেন, ‘সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে, আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’

তবে ভোটের এই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেও কোথাও কোথাও বিড়ম্বনার চিত্র পাওয়া গেল। বর্ণমালা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা তরুণ শিক্ষার্থী তানজিল খানের। দীর্ঘ আন্দোলনের পর প্রথমবার ভোট দিতে এসে দেখেন, কে বা কারা তার ভোটটি আগেই দিয়ে গেছে। ক্ষোভ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুললেন, ‘অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পর যদি ভোটই দিতে না পারি, তবে লাভ কী হলো?’ প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কাশেম গাজী তাকে সান্ত¡না দিয়ে ‘টেন্ডার ভোট’ দেয়ার পরামর্শ দিলেন। অন্য দিকে এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ও পুরাতন ভবনের দূরত্ব এক কিলোমিটার হওয়ায় ভোটারদের স্লিপ হাতে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে দৌড়াতে দেখা গেছে, যা কিছুটা ভোগান্তি তৈরি করেছে।

শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের চিত্রটি ছিল প্রাণবন্ত। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন তরুণী ফাতেমা ও তানিয়া। লালমসজিদ এলাকা থেকে আসা এই দুই তরুণীর জন্য এটিই প্রথম ভোট। তারা জানালেন, সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ-না’ ব্যালটে ভোট দিতে পেরে তারা রোমাঞ্চিত। ৬৮ বছর বয়সী মো: ইস্রাফিল ও স্থানীয় বাসিন্দা মো: রুবেলের কণ্ঠেও ছিল স্বস্তির সুর। রুবেল জানালেন, গতবার কেন্দ্রে এসে শুনেছিলেন ভোট হয়ে গেছে, কিন্তু এবার পরিবেশ ভালো থাকায় নিজেই নিজের ভোটটি দিতে পেরেছেন।

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ঢাকা-১৯

সাভারের কলমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছমির উদ্দিন মাতব্বর ভবনে পুরুষ কেন্দ্রে দেখা হয় ডেইরি ফার্মের (অব:) কর্মচারী বৃদ্ধ মো: ময়নুল হোসেনের সাথে (৮৭)। বেলা তখন ১১টা। এ বয়সেও ভোটের প্রতি তার ব্যাপক উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সর্বশেষ তিনি পরিবারসহ ভোট দিয়েছেন সেই ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের আমলে গত ১৭ বছর কোনো ভোট দিতে পারি নাই। যখনই ভোট দিতে আসতাম বলতো আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। বৃদ্ধ ময়নুল হোসেনের সাথে আসা তার স্ত্রী মোসাম্মৎ আফিয়া খাতুন (৬০) বলেন, খুব ভালো লাগছে, অনেক বছর পর এবার সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরেছি।

রাজাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো: মিজানুর রহমান বলেন, এখানকার মানুষের মধ্যে ভোট দেয়ার জন্য ব্যাপক আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি একটি ভোট উৎসবে পরিণত হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে নারী, পুরুষ ও তরুণরা ভোট দিয়ে যাচ্ছে। ভোট দিতে পেরে তারা সবাই খুশি।

এ রকম ছিত্র ছিল ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে। ভোটের আগের রাতে ছোট-খাটো কিছু ঘটনা ছাড়া গতকাল দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আনসার সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

পুরুষ ও নারী ভোটারদের আলাদা সারিতে সুশৃঙ্খলভাবে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেন্দ্রগুলোতে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা-১৯ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভোটারসংখ্যা সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০জন। মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ২৭৫টি।

সাভার পৌর এলাকার ৬১ নং রেডিও কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরুষ কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, তার কেন্দ্রে সকাল থেকেই প্রচুর ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। বেলা সাড়ে ১১টার সময় এক হাজার ৫৫টি ভোট পড়েছে। এ সময় কথা হয় শাপলা কলি মার্কার প্রার্থী দিলশানা পারুলের সাথে। তিনি এ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে নয়া দিগন্তকে বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কোনো তথ্য পাননি। অবশ্য হাজী হাতেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থীরা জোর করে সিল মারছেন এমনটি শুনেছেন বলে অভিযোগ করেন। যদিও ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো: শহীদুল্লাহ নয়া দিগন্তকে বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি।

এ দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঢাকা-১৯ আসনের পুরুষ ও মহিলা দু’টি কেন্দ্রে ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলমা ওয়াজ আলী মডেল স্কুল কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো: শামসুল হক বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।