বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করার আশাবাদ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন রির্টানিং অফিসাররা। এমন কয়েকটি ঘটনা গণামাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরেও বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর) জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণ দেবনাথ। একই ধরনের ঘটনায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের কোনো ডুকুমেন্টস সাবমিট করা ছাড়াই মনোনয়নপত্রের বৈধতা দেয়া হয় ফেনী-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবদুল আওয়াল মিন্টুর।
আদালত অবমাননার একটি অভিযোগে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণার পর ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা হাততালি দেন। একই অভিযোগে গাইবান্ধা-১ আসনে জমায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমানের প্রথমে মনোয়নপত্র বাতিল হয়। পরে আবার শুনানি ও রিভিউ করে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নেং অফিসার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ‘পলাতক’ আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান সুখনের নামে দাখিল করা মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামায় তিনি ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা, নাসিরনগর, যাত্রাবাড়ী এবং উত্তরা-পূর্ব ও পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া সাতটি মামলা তদন্তাধীন বলে উল্লেখ করেছেন।
মাঠ প্রশাসনের এমন পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আপনারা প্রশাসনের পক্ষপাত ইত্যাদি যে কথাগুলো বলছেন, এই এই ধরনের অভিযোগ আপনারা এর আগেও শুনেছেন, এখনো শুনছেন। এখন কেউ না কেউ কোনো কারণে ক্ষুব্ধ হলে তিনি এ ধরনের কথা বলে থাকেন। এখন মুক্ত তথ্য প্রবাহের যুগ, এ সময় সবাই সেভাবে কথা বলবেন। আমরাও চেষ্টা করব যদি আমাদের কোনো ত্রুটি থাকে আমাদের মাঠ প্রশাসনে বা অন্য কোনো লেভেলে, আমরা সেটা সমাধানের চেষ্টা করব। সব কেসই মেরিটের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।
তিনি আরো বলেন, আমরা যদি কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তাহলে সেভাবে ব্যবস্থা নেবো। ঢালাওভাবে তো কিছু নয়। আমরা সাধারণভাবে মনে করছি তারা (মাঠ প্রশাসন) প্রস্তুত আছেন, যোগ্য আছেন। যদি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় অবশ্যই সেটা তাৎক্ষণিকভাবে বিবেচনা করব।
নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি আছে। এখন প্রশাসনের প্রস্তুতি কী? এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ আছে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন নিয়ে। গতকাল এক রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রশাসনের কাজ স্ট্যাটিক কোনো বিষয় না যে অঙ্ক করে হয়। এক একটা অবস্থা তৈরি হয়, এক একটা ঘটনা থাকে, সেই ঘটনা অনুযায়ী তারা কাজ করে থাকে। মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের জেলা প্রশাসক যারা আছেন, তারা তো রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। আপনারা জানেন যে রিটার্নিং অফিসারের প্রথম দিকের যে কাজ থাকে তার মধ্যে একটা মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং সেটা বাছাই করা। সেই কাজটা হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোনো কোনো ক্যান্ডিডেট অথবা তাদের পক্ষ অথবা অন্য পক্ষ কেউ কেউ ক্ষুব্ধ আছেন। আইন অনুযায়ী সেটার ব্যবস্থা হচ্ছে। আপিলের প্রক্রিয়া এই মুহূর্তে চলছে। এরপর নির্বাচন কমিশন সেগুলো বিবেচনা করবে, আপিল নিষ্পত্তি করবে।