ঝালকাঠি-২ আসনে নির্বাচনী সৌহার্দ্যরে সংলাপ

Printed Edition
bangla-3
ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সৌহার্দ্যরে সংলাপে রাজনৈতিক নেতারা : নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নির্বাচনী সৌহার্দ্যরে সংলাপ’। নির্বাচনী পরিবেশে সহনশীলতা, নীতিনিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি জোরদার করাই ছিল এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য। মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ) ঝালকাঠি এবং ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের যৌথ আয়োজনে গত শনিবার দুপুরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে ঝালকাঠি-২ আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে সাধারণ মানুষের সাথে প্রার্থীদের সরাসরি মতবিনিময়, পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ও পেশাজীবীদের সমস্যা তুলে ধরা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো: আককাস সিকদার ও ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনালের উপপরিচালক দিপু হাফিজুর রহমান সংলাপের বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেসি ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠানে আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা, নারী উদ্যোক্তা, কাঁসাপিতল শিল্পের প্রতিনিধি, শ্রমিক প্রতিনিধি ও প্রতিবন্ধী উন্নয়নকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর প্রতিনিধিদের আগে থেকে রেকর্ড করা প্রশ্ন প্রার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। প্রশ্নে উঠে আসে যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা, শ্রমিকদের অধিকার, বিলুপ্তপ্রায় শিল্প সংরক্ষণ এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়।

সংলাপে বক্তব্য দেন বিএনপি প্রার্থীর প্রতিনিধি রেজাউল হক আজিম, এনসিপির আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্না, সিপিবির প্রশান্ত দাস হরি এবং প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি জিয়াউল হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আসম মাহমুদুর রহমান পারভেজ, নির্বাহী সদস্য আজমীর হোসেন তালুকদার ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল আমিন তালুকদার। সংলাপে বক্তারা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দেন।

এ সময় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, সিপিবিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও প্রতিনিধিরা আরো বলেন, নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা, নারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তারা। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সংলাপ ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে আরো ইতিবাচক করে তুলবে।