মোহামেডানের আতা ভাই আর নেই

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফুটবল মাঠে অনেক সমর্থকই যান। তবে সবার চেয়ে আলাদা ছিলেন আতা ভাই। তার পরো নাম আতাউর রহমান। ফুটবল মাঠে তিনি বিখ্যাত ছিলেন মুখের ভাষার কারণে। সাথে শুদ্ধ ইংরেজি ভাষা। তার মতো এত বয়স নিয়ে কেউ গ্যালারি দাবিয়ে বেড়াতেন না। পুরোপুরি মোহামেডানের সমর্থক ছিলেন। তাই সবাই তাকে মোহামেডানের আতা ভাই নামে চিনতেন। তবে করোনার সময় থেকে আর মাঠে যেতেন না তিনি। অবশ্য আর তাকে মাঠে দেখাও যাবে না। কখনো সুন্দর, কখনো কর্কশ ভাষার বাক্যও বের হবে না তার মুখ থেকে। কারণ পরশু রাতে চিরবিদায় নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেছেন এই ফুটবল তথা মোহামেডানের অন্তঃপ্রাণ মানুষটি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বয়স হয়েছিল ৮০ এর উপরে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং কাব। কাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা তার টিকুটুলীর বাসায় যান। সেখানে তার কফিন ঢেকে দেয়া হয় কাবের সাদাকালো জার্সি দিয়ে। গতকাল বাদ জোহর টিকাটুলী জামে মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। টিকাটুলীতেই নিজ বাড়িতে থাকতেন তিনি।

নাসরা নামের এক মেয়ের জনক ছিলেন আতা ভাই। স্ত্রী শাহীনা বহু আগেই মারা গেছেন। স্ত্রীকে হারানোর পর আতা ভাই দেখা হলেই শাহীনার কথা উল্লেখ করতেন। অনেক দিন স্টেডিয়ামে না দেখে কয়েক বছর আগে তার টিকাটুলীর বাসায় গিয়েছিলাম। একাই থাকতেন তিনি। তার রুমে ছিল মোহামেডানের জার্সি, পাতাকাসহ আরো নানা ছবি। কোনোটি নিবেদিত প্রাণ সমর্থক হিসেবে পাওয়া পুরস্কারের ছবি। একা বয়স্ক মানুষ। কিন্তু যাওয়ার পর কিভাবে আপ্যায়ন করাবেন এ নিয়ে অস্থির হয়ে পড়েন। কিছু দিন আগে পরিকল্পনা করেছিলাম আতা ভাইকে দেখতে যাওয়ার। সময় স্বল্পতায় যাওয়া হয়নি। আরো কোনো দিন যাওয়াও হবে না।

আতা ভাইকে আমার প্রথম দেখা ১৯৯৮ সালে জাতীয় স্টেডিয়ামে থাকা সাবেক বাফুফে অফিসে। এক দিন সন্ধ্যায় এসে অনর্গল ইংলিশে নিজের মতামত জানাচ্ছিলেন। এরপর তাকে নিয়ে নানা সময় নিউজ করেছি। হয়তো আজই তাকে নিয়ে সবার শেষ নিউজ। মিডিয়াকর্মীদের খুব সম্মান করতেন। ফোন দিয়ে খোঁজ নিতেন। মোহামেডানের ঘোর সমর্থক হলেও তাকে ভালোবাসতেন এবং সম্মান দিয়ে কথা বলতেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর সমর্থকরাও।

শুধু সাদাকালো শিবিরের খেলা দেখতেই নয়। জাতীয় দলের খেলার সময়ই গ্যালারিতে সরব উপস্থিতি থাকত তার।