সংসদে ত্রাণমন্ত্রী
চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলে দুর্যোগে নিহত ৩০
Printed Edition
সংসদ প্রতিবেদক
আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার, জরুরি সাড়া দেয়ার সমতা বৃদ্ধি এবং ত্রাণনির্ভর ব্যবস্থাপনা থেকে সমন্বিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের ফলে দেশে দুর্যোগ মোকাবেলার সমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সাথে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে তিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা, আশ্রয় ও ত্রাণসহায়তায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাব এবং বিধি-৩০০ এর আওতায় দেয়া বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ ও পাহাড়ধসের মতো নানা দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বাস্তবতায় সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে ত্রাণকেন্দ্রিক পদ্ধতি থেকে ঝুঁকি হ্রাসভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করেছে। আগাম সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। সাইকোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি), ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি অপারেশন সেন্টার সচল রাখা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং জিআর খাদ্য, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’ কর্মসূচির পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২ ও স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন ডিজাস্টার (এসওডি)-২০১৯ অনুযায়ী সব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় রাখা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে প্রাণহানি ও সম্পদের য়তি কমেছে এবং জনগণের দুর্যোগ মোকাবেলার সমতা বেড়েছে।
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় ১২ জেলার ৩৫টি উপজেলায় টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, মেগাফোন, সাইরেন, স্ট্রেচার, লাইফ জ্যাকেট, রেডিও সেট ও প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় ১২ জেলায় ১২টি উদ্ধার স্পিডবোট এবং বন্যাপ্রবণ পাঁচ জেলায় ৪৩টি অগভীর পানিতে চলাচল উপযোগী উদ্ধার নৌকা সরবরাহ করা হবে।
সাম্প্রতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি তুলে ধরে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ধস ও বন্যায় এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন, বান্দরবানে পাঁচজন এবং রাঙ্গামাটিতে একজনসহ মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তিগ্রস্ত এলাকায় চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য ও তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বণিক কাজ করছে।
তিনি জানান, দুর্গত পাঁচ জেলায় প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা করে নগদ সহায়তা ও ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে চট্টগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং অন্য তিন জেলায় ২০০ মেট্রিক টন করে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণতহবিল থেকেও প্রতিটি দুর্গত জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
পাহাড়ধসে বারবার প্রাণহানির বিষয়টি উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের খাসজমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
এ দিকে, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সংসদে জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ইতোমধ্যে এক হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণতহবিল থেকে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।