নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো : প্রধান উপদেষ্টা

Printed Edition
first-1
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর বাড্ডা হাই স্কুল ও মিরপুরের এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন : পিআইডি

বিশেষ সংবাদদাতা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দিনটিকে জাতির জন্য ‘মহা আনন্দের দিন’ ও ‘মুক্তির দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।

গতকাল সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে আমরা অতীতকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেছি। প্রতিটি ধাপে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। আসুন, আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের জন্মদিন পালন করি। সারা দেশ দিনভর উৎসব করুক।’ তিনি বলেন, প্রার্থীদের ভোট দেয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গণভোটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক ইউনূস আরো বলেন, দেশের মানুষ দিনটিকে জাতীয় উৎসবের মতো করে গ্রহণ করেছে। অনেকেই ঈদের দিনের মতো দিনটি উদযাপন করছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকে মহা আনন্দের দিন, আজকে নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। সারা দিনব্যাপী এই জন্মদিনের উৎসব পালন করব।

তিনি বলেন, এটার মাধ্যমে, অর্থাৎ আজ যে প্রক্রিয়া শুরু হলো এর মাধ্যমে আমরা অতীতকে বর্জন করলাম। যেসব দুঃস্বপ্নের অতীত ছিল সেগুলো আমরা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করলাম। আজকে থেকে আমরা প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করার সুযোগ পেলাম। আজকে সবাই জন্মদিন পালন করি, সবাই মিলে আজ সারা দিনব্যাপী সবাই উৎসব পালন করি। এটা আরো নিশ্চিত হবে গণভোটটা দিয়ে।

ইউনূস বলেন, প্রার্থীর জন্য আমরা ভোট দিলাম সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গণভোটটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি গণভোটে অংশ নেয়ার জন্য । যাতে করে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। আমরা খুব ভালো লাগল। এটা আমার জীবনে মহা আনন্দের দিন। এবং এটা বাংলাদেশের সবারই আনন্দের দিন। মুক্তির দিন। আমাদের দুঃস্বপ্ন এর অবসান। সবাইকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি। এ সময় একজন সাংবাদিক বলেন, ঈদ মোবারক। এটার সাথে সুর মিলিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলে উঠেন, ঈদ মোবারক।

প্রধান উপদেষ্টার কৃতজ্ঞতা : এ দিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই, চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ আবারো প্রমাণ করেছে, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব। তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমাদের জন্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। তিনি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।