যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে ইরানের বিক্ষোভকারীরা : প্রধান বিচারপতি

Printed Edition
Int-1
গোলাম হোসেইন মোসেনি

আলজাজিরা

অর্থনৈতিক সঙ্কট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে সম্প্রতি ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বুরুজের্দ, আরসানজান ও গিলান-এ-ঘার্বে বহু মানুষ রাস্তায় নেমেছে। তবে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোসেনি।

প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে বা তা সমর্থন করে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে। সড়কে অশান্তি বা অনিরাপত্তা সৃষ্টিকারীদের ক্ষমা করা হবে না। জানা গেছে, বিক্ষোভ বন্ধে সরকার ক্ষুদ্র সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারের জন্য মাসিক প্রায় ৭ ডলার প্রদান শুরু করেছে যা শুধু খাবারের মৌলিক সামগ্রীর মূল্যস্ফীতির বোঝা কিছুটা হ্রাস করতে পারে।

গত মাসে ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের দোকানদারদের ক্ষোভ প্রকাশের পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ বিক্ষোভে এরই মধ্যে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত এবং দুই হাজার সাধারণ মানুষ গ্রেফতার হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর-জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসীর হাত কেটে দেয়া হবে। আমাদের সামরিক যুদ্ধের প্রস্তুতি আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ দিকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রেক্ষাপটে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, শত্রুর সামনে হাল ছাড়ব না।

ইরানে বিক্ষোভে ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

আনাদোলু জানায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে টানা ১২ দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। রাজধানীর কাছে মালার্ড জেলায় এ বিক্ষোভের সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

নিহত কর্মকর্তার নাম শাহিন দেহঘান। তিনি বিক্ষোভে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই বিক্ষোভ ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো অস্থির করে তুলছে। বিক্ষোভ শুরু হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। তেহরানের ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধি ও রিয়ালের পতনের ফলে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত বিক্ষোভ ইরানের ৩১ প্রদেশের মধ্যে ২৫টি প্রদেশে ছড়িয়েছে। এতে কয়েকজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের সর্বশেষ ১০ দিনের বিক্ষোভে অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে তারা বলেছে, তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। বিবিসি পারসিয়ান এ পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে। ৬০-এর বেশি আহত হয়েছে এবং দুই হাজার ৭৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইরানের নেতৃত্বের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এই বিক্ষোভ।