যুক্তরাষ্ট্রকে চমকে দিতে চায় বসনিয়া
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনার চ্যালেঞ্জ। আজ ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর এই ম্যাচে ঘরের মাঠের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে চাইবে মউরিসিও পচেত্তিনোর দল। অন্য দিকে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে ওঠা বসনিয়া-হার্জেগোভিনা নিজেদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখতে মাঠে নামবে।
গ্রুপ পর্বে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। যদিও শেষ গ্রুপ ম্যাচে ২-৩ ব্যবধানে তুরস্কের কাছে হেরেছিল তারা, তবে তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষস্থান ধরে রাখে। একই পয়েন্ট পেলেও অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় এবং প্যারাগুয়ে তৃতীয় হয়। বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস খুব সমৃদ্ধ না হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাফল্য রয়েছে। ১৯৩০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়েছিল তারা। এ ছাড়া ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ১৯৯৪, ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২ সালে শেষ ষোলোতে খেলেছিল। তাই এবারো নকআউটে তাদের উপস্থিতি খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়।
এই ম্যাচে জয় পেলে যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম অথবা সেনেগালের। ফলে টুর্নামেন্টের আরো গভীরে যাওয়ার সুযোগ দেখছে স্বাগতিকরা।
অন্য দিকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবার বিশ্বকাপের অন্যতম চমক। গ্রুপ বি থেকে সুইজারল্যান্ড ও কানাডার পেছনে তৃতীয় হয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে দলটি। শুরুতে কানাডার সাথে ১-১ ড্র, এরপর সুইজারল্যান্ডের কাছে ৪-১ গোলের হার এমন অবস্থায় শেষ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে মূল্যবান তিন পয়েন্ট তুলে নেয় তারা। মোট চার পয়েন্ট নিয়েই জায়গা করে নেয় শেষ ৩২-এ।
বসনিয়ার জন্য এটি বড় অর্জনও বটে। ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার পর তারা ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি। সেই হিসেবে ২০২৬ আসরে নকআউটে ওঠা তাদের জন্য বড় সাফল্য।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা হয়েছে, আর সবগুলোই ছিল প্রীতি ম্যাচ। এর মধ্যে দুটি জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মুখোমুখিতে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আমেরিকানরা। ফলে বুধবারের ম্যাচ হবে তাদের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক লড়াই।
দলগত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা সতর্ক অবস্থায় আছে। ক্রিশ্চিয়ান রোলদান (পেশি), মার্ক ম্যাকেঞ্জি (পায়ের চোট) এবং অস্টন ট্রাস্টি (গোড়ালি) নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে সার্জিনিও ডেস্ট, ক্রিস রিচার্ডস, অ্যান্টনি রবিনসন, টাইলার অ্যাডামস, মালিক টিলম্যান, ওয়েস্টন ম্যাককেনি এবং অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আক্রমণে থাকবেন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন, যিনি ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে দু’টি গোল করেছেন।
বসনিয়া শিবিরে ডেডিচ উরুর চোটে অনিশ্চিত। তবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরছেন তারিক মুহারেমোভিচ। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এ দিন জেকো এখনো টুর্নামেন্টে গোল না পেলেও জাতীয় দলের হয়ে তার ৭৩ গোলের অভিজ্ঞতা বসনিয়ার বড় ভরসা।