চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

Printed Edition

- মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি বন্ধ

১০ হাজার হেক্টরের আবাদ নিয়ে শঙ্কা

সুমন আহমেদ মতলব উত্তর (চাঁদপুর) থেকে

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের সেচ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর পরই পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ােভের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে কালীপুর ও উদামদী পাম্প হাউজে পানি সরবরাহের উদ্বোধন করা হলেও ফটোসেশন শেষ হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই পাম্প বন্ধ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ কৃষকদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৩টায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সেচ প্রকল্পের পানি সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) সেলিম শাহেদ এবং পানি ব্যবহারকারী ফেডারেশনের সভাপতি ফয়েজ আহমেদ শাহীন চৌধুরী। তবে উদামদী পাম্প হাউজে প্রায় ১৫ মিনিট এবং কালীপুর পাম্প হাউজে মাত্র ৪০ মিনিট পানি চলার পরই পাম্প বন্ধ করে দেয়া হয়।

এতে ক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, সেচ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে কবে থেকে নিয়মিত পানি সরবরাহ পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে কর্তৃপ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। এতে বোরো আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরে শুরু হয়ে ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পটির মাধ্যমে উপজেলার প্রায় ১৭ হাজার ৫৮৪ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়ার ল্য নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল বোরো ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি। তবে কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় প্রতি বছরই বোরো মৌসুমের শুরুতে সময় মতো সেচ সুবিধা না পাওয়ায় কাক্সিত উৎপাদন ব্যাহত হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বীজতলা তৈরি এবং ১৫ ডিসেম্বর থেকে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরুর কথা। চারার বয়স ২১ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে রোপণ না হলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কিন্তু জানুয়ারির শুরু পেরিয়ে গেলেও সেচের পানি না পাওয়ায় অনেক কৃষক এখনও চারা রোপণ করতে পারেননি। অনেক েেত্র চারার বয়স ৬০ দিন ছাড়িয়ে গেছে, যা বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের তির আশঙ্কা তৈরি করছে।

এ বছর মতলব উত্তর উপজেলায় বোরো আবাদের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি। কৃষকরা সে অনুযায়ী বীজতলা প্রস্তুত করলেও সেচ সুবিধা অনিশ্চিত হওয়ায় ল্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেচ ক্যানেলের বিভিন্ন স্থানে ব্লক নির্মাণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি প্রবাহ পুরোপুরি চালু করা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

একাধিক কৃষক জানান, বিকল্প হিসেবে শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে সেচ দিতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। খাল ও বিলের পানিও প্রায় শুকিয়ে আসছে।

কালিপুর পাম্পের অপারেটর পঙ্কজ বলেন, বিকেল ৪টার দিকে পাম্প চালু করে ৪টা ৪৫ মিনিটে বন্ধ করে দেয়া হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, সেচ প্রকল্পের পানি উদ্বোধনের বিষয়ে তাকে আগে জানানো হয়নি।

পানি ব্যবহারকারী ফেডারেশনের সভাপতি ফয়েজ আহমেদ শাহীন চৌধুরী বলেন, উদ্বোধনের দিন প্রতীকীভাবে কিছু সময় পানি চালু ছিল। শিগগিরই পূর্ণমাত্রায় সেচ কার্যক্রম শুরু হবে।

অন্য দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম শাহেদ বলেন, পাম্প বন্ধের বিষয়টি তিনি জানতেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন সেচ কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিলম্ব হলে চলতি বোরো মৌসুমে পুরো এলাকা ভয়াবহ তির মুখে পড়বে।