সরাইলে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে হট্টগোল

রুমিন ফারহানার সমর্থকদের ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

Printed Edition
bangla-7
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার সময় সৃষ্ট হট্টগোলকে কেন্দ্র করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় এ অবরোধ কার্যক্রম চলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে কয়েক শ’ সমর্থক নিয়ে উপস্থিত হন এমপি রুমিন ফারহানা। এ সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়। ঘড়িতে ১২টা এক মিনিট বাজার সাথে সাথে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান রুমিন। একই সময়ে ফুল দিতে আসেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য আনোয়ার হোসেন মাস্টার। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শহীদ মিনারের আশপাশে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অনেকেই জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে পড়ে এবং মিনারে দেয়া ফুলও ছিঁড়ে ফেলে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে এমপি রুমিন ফারহানার কয়েক শ’ সমর্থক শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। তারা লাঠিসোটা হাতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা আনোয়ার হোসেন মাস্টারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

সরাইল থানা ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত দেড়টার দিকে শহীদ মিনারে সংগঠিত ঘটনার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা সরে দাঁড়ায়। মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখার কারণে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, ‘শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে আর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে দেখব বিষয়টি।’

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাত দেড়টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।