পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

Printed Edition
back-1
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেনের সাথে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাথে চমৎকার বৈঠক হয়েছে। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।

তবে রাত ৮টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তৌহিদ হোসেনের সাথে ক্রিস্টেনসেনের সাক্ষাতের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কিছু জানানো হয়নি।

মুসলিম বিশ্বকে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তরে বিনিয়োগ করা উচিত : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, অসাধারণ সম্ভাবনা এবং সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সমস্যা হলো শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পশ্চাদপদতা। মুসলিম বিশ্বকে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর এবং জনগণের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে আরো বিনিয়োগ করা উচিত।

গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) এবং সিয়াকো ইউনিভার্সিটিজ নেটওয়ার্কের (সান) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আইইউটির ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং সিয়াকো ফাউন্ডেশনের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সানের সদস্য সালাহউদ্দিন কাসেম খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক সই করেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারককে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতা ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভাগাভাগি বৃদ্ধি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচিত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর আজ

বিশেষ সংবাদদাতা জানান, আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচিত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক আরো কমতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর শুল্ক রয়েছে ২০ শতাংশ। এটি কমিয়ে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ করা হতে পারে।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশী পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যে বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। উপদেষ্টা বলেন, আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরো কত কমানো যায় (শুল্ক); আশা করছি ৯ তারিখে (আজ) হতে যাওয়া চুক্তিতে কমবে; তবে কতটুকু কমবে তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখবো।

অন্য দিকে চুক্তির শর্ত নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি সাপেক্ষে এটি প্রকাশও করা হবে।

জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। যাবেন না বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানও। চুক্তি সই করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাণিজ্যবিষয়ক আলোচক দল ওয়াশিংটন ডিসিতে গেছেন। তবে উপদেষ্টা ও সচিব চুক্তি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবে।

অন্য দিকে চুক্তির নানা শর্ত নিয়ে এখনো পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। কারণ এর আগে চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ সই করেছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির বিষয়টি আসে গত বছরের এপ্রিলে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের জন্য হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ফাঁকে চলতে থাকে আলোচনা ও দর-কষাকষি। গত বছরের ১৩ জুন দেশটির সাথে একটি এনডিএ সই করে বাংলাদেশ, যেখানে শুল্ক চুক্তি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়। ওয়াশিংটনে গিয়ে আলোচনা শেষে গত বছরের ২ আগস্ট পাল্টা শুল্কের হার ঠিক হয় ২০ শতাংশ। এ হার ১ আগস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশী পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রয়েছে ৩৫ শতাংশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, শুল্ক, অশুল্ক, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎসবিধি, জাতীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভিন্ন শর্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

অন্য দিকে চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য; উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।