পাবনা-৩ আসনে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

Printed Edition
bangla-4
পাবনা-৩ আসনে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

মো: নূরুল ইসলাম চাটমোহর (পাবনা)

পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মাঠের উত্তাপ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক, হাট-বাজারে গণসংযোগ, পথসভা ও দলীয় সভায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের মতে, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মধ্যে।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৩ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৮৬ হাজার ৮০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪৩ হাজার ৯৩৬, নারী দুই লাখ ৪২ হাজার ৮৬২ এবং ট্রান্সজেন্ডার ভোটার ছয়জন। শেষ মুহূর্তে কার পক্ষে জনসমর্থনের পাল্লা ভারী হবে তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

এ আসনে বিএনপি, ১১ দলীয় ঐক্যজোট (জামায়াত), জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মাঠপর্যায়ের প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততার দিক থেকে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করছেন এবং স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়ন প্রত্যাশার বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সমন্বিতভাবে প্রচারণা চালালেও দলটির ভেতরে দীর্ঘ দিনের নেতৃত্বকেন্দ্রিক বিভক্তির বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ আলোচিত।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, শুরুতে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও এখন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম কালু বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা এখন একযোগে মাঠে রয়েছেন এবং প্রার্থীর অবস্থান শক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আলী আছগার দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। জোটগত সিদ্ধান্তে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে তিনি গ্রামভিত্তিক সভা, পথসভা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। জামায়াত ও জোটভুক্ত দলের নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বেশ জোরালোভাবে।

জামায়াতের স্থানীয় নেতারা বলছেন, ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন তাদের প্রার্থী। চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হামিদ বলেন, ভোটাররা এখন বাস্তব উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা চান। সে লক্ষ্য নিয়েই তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থনের দাবি করছেন।

প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার বলেন, তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। একই সাথে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্য ছয় প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির মীর নাদিম মোহাম্মদ (লাঙ্গল), গণফোরামের সরদার আশা পারভেজ (উদীয়মান সূর্য), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মাহবুবুর রহমান জয় (একতারা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: আব্দুল খালেক (হাতপাখা), গণ অধিকার পরিষদের মো: হাসানুল ইসলাম (ট্রাক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম (ঘোড়া) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে তাদের প্রচারণা তুলনামূলক কম বলে মনে করছেন ভোটাররা।

সব মিলিয়ে পাবনা-৩ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ঘিরে উত্তেজনা চরমে। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনের পরিবেশ কেমন থাকে তার ওপরই নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন বিজয়ের মুকুট।