প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা মাঠে
ভোটযুদ্ধে আসনপ্রতি গড়ে ৬ জনের বেশি
Printed Edition
হামিদুল ইসলাম সরকার
- ৩১ আসনে তুমুল লড়াই
- সবচেয়ে কম প্রার্থী পিরোজপুর-১ এ
- বেশি ঢাকা-১২ তে ১৫ জন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে প্রতি আসনে গড়ে ৬.৬১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে ২৯৮ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৭২ জন। প্রার্থী সংখ্যা সব থেকে বেশি ঢাকা-১২ আসনে ১৫ জন। সব থেকে কম দু’জন প্রার্থী পিরোজপুর-১ আসনে। অন্য দিকে দেশের ৩১টি আসনে ১০ জন করে প্রার্থী রয়েছে। ফলে এসব আসনে ভোটের মাঠে তুমুল লড়াই হবে। যত বেশি প্রার্থী তত বেশি লড়াই হবে বলে দাবি খোদ ইসির। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য একীভূত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর তালিকা প্রকাশ করেছে।
ইসির প্রকাশিত প্রার্থীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র দু’জন প্রার্থী রয়েছেন। এদের একজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ সাঈদী, অন্যজন বিএনপির আলমগীর হোসেন। সবার ধারণা এই আসনে তুমুল লড়াই হবে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৩ জন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও এলাকা) রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে।
তারা হলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো: সাইফুল আলম খান এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিন সাইফুলসহ মোট ১৫ জন প্রার্থী রয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে। এই আসনে তুমুল লড়াই হবে বলে ধারণা ভোটারদের।
দ্বিতীয় স্থানে ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। আর খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪, গাজীপুর-২ আসনে রয়েছেন ১২ জন করে।
প্রতি আসনে কোন নির্বাচনে গড়ে কত প্রার্থী
এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীং সংসদ নির্বাচনে ২ হাজার ৭৮৭ জন প্রার্থী, অর্থাৎ গড়ে সর্বোচ্চ ৯.২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরপর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে এক হাজার ৯৩৫জন বা গড়ে ৬.৩৫জন, নবম সংসদ নির্বাচনে এক হাজার ৫৬৭ জন বা গড়ে ৫.২২ জন, দশম সংসদ নির্বাচনে এক হাজার ৮৬১ জন বা গড়ে ৬.২০ জন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা ভোটে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এক হাজার ৯৭০ জন বা ৬.৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বলে ইসির তথ্য থেকে জানা গেছে।
১০-এর বেশি প্রার্থী যেখানে
ইসির তালিকা অনুযায়ী ১১ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন ঢাকা-৫, ঢাকা-৭, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭, নারায়ণগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫ ও খাগড়াছড়ি আসনে। ১০ জন করে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩, রংপুর-৫, গাইবান্ধা-৩, খুলনা-৩, টাঙ্গাইল-৪, ঢাকা-১৮, নরসিংদী-৫, নারায়ণগঞ্জ-৫, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-৫, নোয়াখালী-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১১ আসনে।
হেভিওয়েটদের প্রতিদ্বন্দ্বী যে সব আসনে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঢাকা-১৭ আসনে ১০ জন ও বগুড়া-৬ আসনে চারজনের সাথে লড়তে হবে। জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে আটজনের সাথে লড়তে হবে। এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ঢাকা-১১ আসনে আটজনের সাথে, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাকে ঢাকা-৯ আসনে ১১ জনের সাথে, বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে ফেনী-৩ আসনে সাতজনের সাথে, এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহকে কুমিল্লা-৪ আসনে চারজনের সাথে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাসসহ ১০ জনের সাথে লড়তে হবে। এ ছাড়া ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো: মামুনুল হক, ঢাকা-১ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-২ আসনে আমানুল্লাহ আমান, বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম লড়াই করবেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ আসন থেকে লড়বেন চারজনের সাথে। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে লড়তে হবে ১০ জনের বিরুদ্ধে। অন্য দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে (চকরিয়া-পেকুয়া) দলের মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ লড়বেন। মাত্র তিনজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে লড়বেন। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মো: তাহের।
যেসব আসনে লড়াই কম হবে
তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই। ঋণ খেলাপির কারণে এসব আসন থেকে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ফলে এই তিন আসনে লড়াই কম হবে বলে জানা গেছে। কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর বিপক্ষে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাকে হতাশ হতে হয়েছে। চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীর ও কুমিল্লা-১০ আসনে দলটির প্রার্থী আবদুল গফুর ভুইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে এই তিনটি আসনে জামায়াত জোট প্রথম থেকেই এগিয়ে আছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ইসির দশটি অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রার্থী ঢাকা অঞ্চলে। রংপুরে ৩৩টি আসনের বিপরীতে ২৩৫জন, রাজশাহীতে ৩৭টির বিপরীতে ১৯৮জন, খুলনায় ৩৬টির বিপরীতে ২০১ জন, বরিশালে ২১টির বিপরীতে ১২৪ জন, ফরিদপুরে ১৫টির বিপরীতে ১১৪ জন, ঢাকাতে ৪১টির বিপরীতে ৩৫২ জন, ময়মনসিংহে ৩৮টির বিপরীতে ২২৯জন, সিলেটের ১৯টির বিপরীতে ১০৪ জন, কুমিল্লার ৩৫টির বিপরীতে ২৬৫ জন এবং চট্টগ্রামে ২৩টির বিপরীতে ১৫০ জন ভোট যুদ্ধে এখন মাঠে।