কিশোরগঞ্জ-১ আসনে লড়াই হবে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর
Printed Edition
আল আমিন কিশোরগঞ্জ ও জাহাঙ্গীর আলম হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর- হোসেনপুর) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী না থাকায় মূল লড়াইটি হচ্ছে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। ফলে ধানের শীষ ও মোরগ প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই ভোটের মাঠে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির তিনবারের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। দলীয় কোন্দল কাটিয়ে শেষ সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব একাট্টা হয়ে তার পক্ষে মাঠে নামায় প্রচারণায় বেশ প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে ফুরফুরে মেজাজ ও আত্মবিশ্বাস লক্ষ করা যাচ্ছে। অন্য দিকে মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির হেভিওয়েট নেতা সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোরগ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নারী ভোটারদের দিকে তাকিয়ে নির্বাচনী মাঠে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুরুতে মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনও হয়। তবে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দেন। জেলা শহরের আলম টাওয়ারে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে এই ঐক্য গড়ে ওঠে। ওই বৈঠকে প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা নতুন উদ্যমে মাঠে নামেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলমসহ নেতারা দাবি করছেন, দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন হওয়ায় এবার ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। তবে ভিন্ন হিসাব দেখাচ্ছেন অনেক ভোটার। তাদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু এই আসনে পরিচিত মুখ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অল্প সময়ের প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন তিনি। এবারো ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও পুরনো নেটওয়ার্কের ওপর ভর করে তিনি একাই দৃশ্যমান লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ দিকে জামায়াত প্রার্থী না দিলেও জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে কোন্দল রয়েছে। খেলাফতে মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে প্রার্থী ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ইসলামপন্থী ভোটব্যাংক বিভক্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তাদের প্রচারণায়ও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচন শুধু দলীয় শক্তির লড়াই নয়, বরং ঐক্য ও বিভক্তির বাস্তব পরীক্ষা। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৩৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার পুরুষের চেয়ে ছয় হাজার ১৮১ জন বেশি। ফলে নারী ভোটারদের ভূমিকা এখানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির ঐক্য কতটা কার্যকর হয়, বিদ্রোহী প্রার্থী কতটা নারী ভোটার টানতে পারেন এবং ইসলামপন্থী ভোট বিভাজন কতটা প্রভাব ফেলে; সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে এই আসনের ফল।