ফের দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়াল ডিএসইর লেনদেন

ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে আজ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার বন্ধ

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

বিক্রয়চাপের নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে আবার ঊর্ধ্বমুখী হলো পুঁজিবাজার। গতকাল মঙ্গলবার দেশের দুই পুঁজিবাজারেই একই প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে উভয়র বাজারেই সূচকের বড় ধরনের উন্নিতি ঘটে যা প্রভাব ছিল বাজারগুলোর লেনদেনেও। গতি ফিরে পাওয়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন ফের ছাড়িয়ে যায় দেড় হাজার কোটি টাকা। গতকাল বাজারটি ১ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ২২২ কোটি টাকা বেশি। সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ১ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এর আগে গত ৭ জুন চলতি বছরের মধ্যে প্রথমবার দেড় হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে ডিএসইর লেনদেন। ওই দিন বাজারটির লেনদেন ছিল এক হাজার ৫২৯ কোটি টাকা। তবে পরে বাজারে সংশোধন ঘটায় গত ২৩ জুন ডিএসইর লেনদেন নেমে আসে ৮২৮ কোটি টাকায়।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, সোমবার সংসদে অর্থবিল পাস হয়েছে। যেখানে পুঁজিবাজারের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কিছু প্রণোদনার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে বাজারে তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর জন্য কর ব্যবধানের প্রস্তাব করা হয়েছে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এর ফলে ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী হবে। এছাড়া কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের ওপর করহারও হ্রাস করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৪০ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৫ হাজার ৭২২ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৭৬২ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১১ দশমিক ৯১ ও ১১ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও গতকতাল সব সূচকের উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক ৯৭ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। ১৫ হাজার ৩৫২ দশমিক ০৮ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি মঙ্গলবার দিনশেষে স্থির হয় ১৫ হাজার ৪৫০ দশডিমক ০৯ পয়েন্ট। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ১৬ ও ৬০ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট।

গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী আচরণ দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। ঢাকায় প্রধান সূচকটি লেনদেন শুরুর পনের মিনিটের মাথায় পৌঁছে যায় ৫ হাজর ৭৫২ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় প্রায় ৩০ পেয়ন্ট। লেনদেনের এ পর্যায়ে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলে বেলা ১১টার দিকে সূচকটি নেমে আসা ৫ হাজার ৭৩২ পয়েন্টে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে চাপ সামলে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচকটি। বেলা ১টার দিকে সূচকটি পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৭২ পয়েন্টে। এ সময় সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় ৫০ পয়েন্ট। তবে শেষ দিকে নতুন করে সৃষ্ট বিক্রয়চাপে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের একটি অংশ হারায় বাজারটি।

পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক আচরণে বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট। সূচকের উন্নতির পাশাপাশি বাজারের সংশোধন ঘটলেও এ সুযোগকে কাজ লাগিয়ে তারা কমবেশি মুনাফা তুলে নিতে পারছেন। গতকাল মতিঝিলে ডিএসই’র বিভিন্ন ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফ্লোরগুলোতে ট্রেডিংয়ে অংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের সাথে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তারা তাদের এ সন্তুষ্টির কথা জানান। তবে তারা মনে করেন এ সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বাজারে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ভালো শেয়ারের প্রবাহ বাড়ানো। এতে বাজার টেকসই হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তা না হলে শেয়ারের স্বল্পতার কারণে দ্রুতই বাজারে ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলো নিয়ে পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে আসা দরকার। কারণ এসব কোম্পানি নিয়েই বাজারে কারসাজির বেশি সুযোগ থাকে।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সেেচঞ্জ লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ব্যাংকিং কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক। ৭৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১ কোটি ১৪ লাখ ১৩ হাজর শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৬০ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় ২ কোটি ৭ ল্যাখ ২১ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে বেক্সিমকো লিমিটেড ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে মালেক স্পিনিং, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, আইপিডিসি, আইটি বনসালটেন্ট লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, সিটি ব্যাংক, ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

এ দিকে আজ ১ জুলাই বুধবার ব্যাংক হলিডে। এ উপলক্ষে আজ ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। একইসাথে বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেনও। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। সচরাচর প্রতি বছর ১ জুলাই দেশের ব্যাংকখাতে ‘অর্ধবার্ষিক সমাপনী’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় ব্যাংকগুলো ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এই কাজের সুবিধার্থে দিনটি ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালন করা হয়।

যেহেতু পুঁজিবাজারের লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়ার সাথে ব্যাংকের লেনদেনের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে বিধায় ব্যাংক হলিডের কারণে বাংলাদেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ-ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হবে না। কেননা পুঁজিবাজারের প্রায় সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে ব্যাংক বন্ধ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই পুঁজিবাজারের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়।