হৃদয়ের শতকে মলিন ইসাখিল

Printed Edition
khela-1
সেঞ্চুরি করার পর উদযাপন করছেন রংপুরের তৌহিদ হৃদয় ও নোয়াখালীর ব্যাটার ইসাখিল : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার আর প্রথম আফগান হিসেবে বিপিএলে সেঞ্চুরি। মোহাম্মদ নবীর ছেলে হাসান ইসাখিলের এমন রঙিন দিনেও জয় পাওয়া হলো না নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। হার দিয়েই শেষ হলো তাদের বিপিএল মিশন। এর আগে সিলেট পর্বে এই নোয়াখালীর কাছেই হেরেছিল রংপুর রাইডার্স। গতকাল ঢাকায় যেন হয়ে গেল সেটিরই মধুর প্রতিশোধ। তৌহিদ হৃদয়ের সেঞ্চুরিতে দুই বল বাকি থাকতে রংপুর পেয়েছে আট উইকেটের দারুণ জয়।

ম্যাচের প্রথম ভাগের নায়ক ছিলেন ইসাখিল। এক সপ্তাহ আগে বিপিএল অভিষকে ৯২ রানে আউট হওয়া ব্যাটসম্যান এবার করেন অপরাজিত সেঞ্চুরি। কিন্তু আফগান গ্রেট মোহাম্মদি নাবির ছেলের সেঞ্চুরি ছাপিয়ে আরো কার্যকর শতরান উপহার দেন হৃদয়। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নোয়াখালী ২০ ওভারে তোলে দুই উইকেটে ১৭৩ রান। রংপুর জয় পায় দুই বল বাকি রেখে।

৭২ বলে ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ইসাখিল। ফিফটি করতে তার ৫০ বল লাগলেও পরের ৫০ করেন ২০ বলেই। ইনিংসে ছক্কা মারেন ১১টি, এবারে বিপিএলে এক ম্যাচে ছয়টির বেশি ছক্কা নেই আর কারো। অবশ্য হৃদয়ের ইনিংসে এমন ছক্কা বৃষ্টি ছিল না। তবে তার ব্যাট ছিল আরো গতিময়। ১৫ চার ও দুই ছক্কায় ৬৩ বলে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। টি-২০ ক্রিকেটে ও বিপিএলে তার দ্বিতীয় শতরান এটি। আগেরটি ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ১০৮। এই আসরের প্রথম ছয় ম্যাচে হৃদয়ের রান ছিল মাত্র ১০৬। ফিফটি ছিল একটি। ওপেনিংয়ে উঠে আসার পর থেকেই তার পারফরম্যান্সে এসেছে অবিশ্বাস্য বদল। ইনিংস শুরু করে তিন ম্যাচের রান যথাক্রমে ৯৭*, ৬২, এবার সেঞ্চুরি। ৩৫৬ রান নিয়ে তালিকায় সবার ওপরে।

নোয়াখালী টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু করেছিল ধীরগতিতে। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে দলীয় ৩২ রানে সাজঘরে ফেরেন রহমত আলী। দলীয় ৩৬ রানে সাজঘরে ফেরেন ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী জাকের আলী অনিকও। এরপর দক্ষ হাতে চাপ সামাল দেন হাসান ইসাখিল ও অধিনায়ক হায়দার আলী। ইসাখিল শুরুতে দেখেশোনে খেললেও থিতু হওয়ার পর চড়াও হন বোলারদের ওপর। হায়দারও উইকেট অনুযায়ী রানের চাকা সচল রাখেন। চারটি চার ও ১০টি ছক্কায় ৭০ বলে সেঞ্চুরির ম্যাজিকেল ফিগারে পৌঁছেন ইসাখিল। প্রথম আফগান হিসেবে বিপিএলে সেঞ্চুরি হাঁকান মোহাম্মদ নবীর ছেলে, যিনি অভিষেক ম্যাচে অল্পের জন্য পাননি সেঞ্চুরির (৯২) দেখা। গতকাল সেঞ্চুরিতে বড় কৃতিত্ব ছিল হায়দারের, যিনি যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন ইসাখিলকে। দু’জনে গড়েন ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই উইকেট হারিয়েই ১৭৩ রান জড়ো করে নোয়াখালী। ৭২ বলে ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন ইসাখিল। ৩২ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন হায়দার। একটি করে উইকেট পান নাহিদ রানা ও আলিস আল ইসলাম।

জবাব দিতে নেমে রংপুরকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ডেভিড মালান ও তৌহিদ হৃদয়। দুজনের ৭৮ রানের জুটি ভাঙে মালান (১৫) বিদায় নিলে। তবে হৃদয় ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। ৫৭ বলে সেঞ্চুরি করার পর সিজদায় জানান কৃতজ্ঞতা। ৬৩ বলে ১০৯ রান করার পথে ১৫টি চার ও দু’টি ছক্কা হাঁকান হৃদয়। ১৯তম ওভারে সাজঘরে ফিরলেও তার ব্যাটে ভর করেই রংপুর পেয়ে যায় আসরে নিজেদের ষষ্ঠ জয়। এরপর লিটন খুশদিল শাহকে নিয়ে আট উইকেট ও দুই বল হাতে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৩৫ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন রংপুর ক্যাপ্টেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নোয়াখালী এক্সপ্রেস : ২০ ওভারে ১৭৩/২ (ইসাখিল ১০৭*, রহমতউল্লাহ ৯, জাকের ৩, হায়দার ৪২*; নাহিদ ১/৪০, আলিস ১/২২)।

রংপুর রাইডার্স : ১৯.৪ ওভারে ১৭৪/২ (মালান ১৫, হৃদয় ১০৯, লিটন ৩৯*, খুশদিল ৩*; হাসান ১/২৩, জহির ১/২৭)।

ফল : রংপুর রাইডার্স ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : তৌহিদ হৃদয়।