শরিফুলের ফাইফারে সবার আগে বিদায় নোয়াখালীর
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঢাকা পর্বের প্রথম দিনে নানা নাটক আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে দ্বিতীয় দিন মাঠে গড়াল বিপিএল। ফেরার ম্যাচেই দর্শকদের দারুণ রোমাঞ্চ উপহার দিয়ে শেষ হাসি চট্টগ্রাম রয়্যালসের। অধিনায়ক শেখ মাহেদী হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে এবং শরিফুল ইসলামের ফাইফারে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে বিদায় করে দিয়েছে বন্দর নগরীর দলটি। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮.৫ ওভারে ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় নবাগত নোয়াখালী। জবাবে ৩ ওভার হাতে রেখেই নোয়াখালীকে ৫ উইকেটে হারিয়ে রয়্যালসরা পৌঁছে গিয়েছে শীর্ষস্থানে।
এই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক শেখ মাহেদী হাসান। প্রথমে বল হাতে ৩ ওভার বল করে মাত্র ১২ রান দিয়ে তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে দলের বিপদের মুহূর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৬ বলে চারটি চার ও দু’টি ছক্কায় খেলেন হার না মানা ৪৯ রানের ইনিংস। চলতি বিপিএলে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন শরিফুল ইসলাম। করলেন নিজের সেরা বোলিং। ৩.৫ ওভার বল করে ৯ রানে ৫ উইকেট নেন এই বাঁ হাতি। টি-২০ ক্যারিয়ারের ১৫২ ম্যাচে এটিই শরিফুলের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার। এর আগে গত বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ৩.২ ওভারে এক মেডেনে ৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন।
বিপিএলে নিজের সেরা বোলিং করার পথে নোয়াখালীর বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও সফল হননি শরিফুল। ১৬তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান রানাকে আউট করেন। ১৯তম ওভারেও ৩ বলের ব্যবধানে শরিফুলের শিকার ২ উইকেট। এ যাত্রায় ফেরান সাব্বির হোসেন ও ইহসানউল্লাহকে। নিজের প্রথম উইকেট নেন পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে। ২৫ রান করা নোয়াখালীর ওপেনার ইসাখিলকে শেখ মাহেদির ক্যাচে পরিণত করেন।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে সৌম্য সরকারের সাথে ৩৪ রান যোগ করেন নোয়াখালীর হাসান ইসাখিল। এরপর বড় কোনো জুটি না হলেও ছোট ছোট অংশীদারত্বে এগোতে থাকে দলটি। ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৬ রান তুলে তখন বড় পুঁজির ইঙ্গিত দিচ্ছিল তখন মাহেদীর ঘূর্ণি আর শরিফুলের বিধ্বংসী স্পেলে হঠাৎ করেই ধস নামে। শেষ ৭ উইকেট হারায় মাত্র ৪১ রান যোগ করতেই। নোয়াখালীর পক্ষে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন হাসান ইসাখিল। জাকের আলী করেন ২৩ এবং সাব্বির হোসেন করেন ২২ রান।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। হাসান মাহমুদের বলে শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর ইহসানউল্লাহ ফেরান মোহাম্মদ হারিস ও মাহফিজুল ইসলামকে। মোহাম্মদ নাঈম ১৮ রান করে আউট হলে মাত্র ২৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দলটি। সেই কঠিন মুহূর্তে হাসান নাওয়াজকে সাথে নিয়ে ৪০ রানের জুটিতে স্বস্তি ফেরান অধিনায়ক শেখ মাহেদী। আফগান স্পিনার জহির খান এই জুটি ভাঙলেও এরপর আসিফ আলীকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫৯ রানের জুটিতে ১৮ বল বাকি থাকতেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। আসিফ আলী ৩০ বলে দু’টি চার ও দু’টি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৩৬ রান। ৫ উইকেটের জয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপিএল অভিযানেও পড়ে যায় ইতি চিহ্ন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস : ১৮.৫ ওভারে ১২৬ (ইসাখিল ২৫, সৌম্য ১৪, জাকের ২৩, হায়দার ১২, সোহান ১১, সাব্বির ২২, শরিফুল ৫/৯, শেখ মাহেদী ৩/১২, জামাল ১/৩৬)।
চট্টগ্রাম রয়্যালস : ১৭ ওভারে ১২৮/৫ (নাঈম ১৮, নাওয়াজ ১১, শেখ মাহেদী ৪৯*, আসিফ ৩৬*; হাসান ১/১৭, ইহসানউল্লাহ ২/২৩, সাব্বির ১/৩২)।
ফল : চট্টগ্রাম রয়্যালস ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : শেখ মাহেদী হাসান।