ফেবারিটদের সামনে ইতিহাস গড়ার লড়াই
ইংল্যান্ড-ডি আর কঙ্গো প্রিভিউ
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড এবং আফ্রিকার চমক ডিআর কঙ্গো। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে রাউন্ড অব ৩২-এর এই ম্যাচ। এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট ইংল্যান্ড। তবে নকআউট ফুটবলে কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বড় দলকে কিভাবে চাপে ফেলতে ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রমাণ করেছে ডিআর কঙ্গো। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১০টায় শেষ ষোলো নিশ্চিতের লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েই শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোয় উঠার পথে এগিয়ে চলেছে ইংল্যান্ড। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানোর পর ঘানার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করে ইংলিশরা। শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েই নকআউট জায়গা নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। তবে ফল ইতিবাচক হলেও তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। থমাস টুখেলের দল বলের দখল ও রক্ষণে শক্তিশালী থাকলেও আক্রমণে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র এবং কিছু সময় ধীরগতির ফুটবল হতাশ করেছে সমর্থকদের। ফলে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে আরো কার্যকর ফুটবলের প্রত্যাশা রয়েছে ইংলিশ সমর্থকদের।
অন্য দিকে এই বিশ্বকাপের অন্যতম রূপকথার গল্প লিখে নকআউটে জায়গা পেয়েছে ডিআর কঙ্গো। ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপপর্বে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল হিসেবে পরের রাউন্ডে ওঠে তারা। দলটির আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে, আর কোনো চাপ ছাড়াই মাঠে নামতে পারবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের তারকাবহুল স্কোয়াড। গোলের সামনে সবসময়ই ভয়ঙ্কর অধিনায়ক হ্যারি কেন। মাঝমাঠে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন জুড বেলিংহাম। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ করেছে ডেকলান রাইসের প্রত্যাবর্তন। ইনজুরি থেকে ফিরেছেন আর্সেনালের ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা।
শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণই মূল ভরসা ডিআর কঙ্গোর। সুযোগ পেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন ফরোয়ার্ড ইয়োয়ানে উইসা ও সেদ্রিক বাকাম্বু। শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে আটকে রাখার জন্য পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণ সাজিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে। প্রতিপক্ষকে হতাশ করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকাই হবে তাদের মূল কৌশল।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কঙ্গোর ম্যাচটি হতে পারে দখল বনাম প্রতি-আক্রমণের লড়াই। ইংল্যান্ড শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখতে চাইবে। অন্য দিকে ডিআর কঙ্গো রক্ষণে ঘন দেয়াল তৈরি করে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ইংল্যান্ডকে চমকে দেয়ার চেষ্টা করবে। তাই এই ম্যাচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে প্রথম গোল। যদি ইংল্যান্ড আগে গোল পেয়ে যায়, তাহলে ম্যাচ অনেকটাই তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। কিন্তু সময় যত গড়াবে এবং গোল না এলে চাপ বাড়বে ইংলিশদের।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফেবারিট হিসেবে ইংল্যান্ডের কাছে জয়ই প্রত্যাশা করে সবাই। ফলে ম্যাচে চাপ বেশি থাকবে ইংলিশদের। অন্য দিকে ডিআর কঙ্গোর হারানোর তেমন কিছু নেই। তাই নির্ভার ফুটবল খেলবে আফ্রিকার দেশটি। যা অনেক সময় বিপদে ফেরতে পারে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে কখনোই মুখোমুখি হয়নি ডিআর কঙ্গো। ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে দল দু’টি প্রথমবারের মতো একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।