ম্যানচেস্টারে ইসলামবিরোধী মিছিল, পাল্টামিছিল

Printed Edition
onno-1
ম্যানচেস্টারের শহরের কেন্দ্র্রে ব্রিটেন ফার্স্ট কর্মীদের ইসলামবিরোধী মিছিল : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের ভেজা এক আন্ডারপাসে ‘ওদের ফেরত পাঠাও’ স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। শত শত কট্টর ডানপন্থী ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকারী রাস্তায় মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হাওয়ায় উড়ছিল ব্রিটেনের ‘ইউনিয়ন জ্যাক’ পতাকা। কিছু বিক্ষোভকারীকে স্পষ্টই মদের প্রভাবে খানিকটা মাতাল দেখা যাচ্ছিল। তারা একের পর এক অভিবাসনবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকেও কটাক্ষ করছিলেন।

ব্রিটেন থেকে গণহারে অভিবাসী ও মুসলিমদের বহিষ্কারের দাবি জানানো কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ব্রিটেন ফার্স্ট এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। জবাবে গতকাল শনিবার দুপুরে একটি পাল্টা বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়। পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেয় আরো বড় জনসমাগম। তারা ছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভকারী। তারা বর্ণবাদবিরোধী ব্যানার বহন করছিলেন। বিভিন্ন পতাকা ওড়াচ্ছিলেন, যার মধ্যে ফিলিস্তিনের পতাকাও ছিল। দক্ষিণ লন্ডনের ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রুবি পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার কোচযাত্রা করেন। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, এখানে আসা তার জন্য ‘কোনো চিন্তার বিষয়ই ছিল না।’ আইনি ঝামেলা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় তিনি তার পদবি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

রুবি জানান, তার দাদা-দাদি মূলত ব্রিটিশ এলাকা ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের মন্টসেরাটের বাসিন্দা। তারা ছিলেন উইন্ডরাশ প্রজন্মের অংশ। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ক্যারিবীয় দেশগুলো থেকে যেসব অভিবাসীকে যুক্তরাজ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তারা সেই দলে ছিলেন। নিজেদের নতুন দেশকে এত কিছু দেয়ার পরও এখন তারা ক্রমেই অনাকাক্সিক্ষত বোধ করছেন। রুবি বলেন, তার দাদা-দাদি তাকে জানিয়েছেন, ১৯৫০-এর দশকে যখন তারা এ দেশে এসেছিলেন, যে মাত্রার বর্ণবাদের মুখে পড়েছিলেন, এখন তারা আবার সেই সময়ের মতো পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছেন।

ওয়েলসের ১৬ বছর বয়সী পাল্টা বিক্ষোভকারী ল্লোয়েলিনও একই কথা বলে। সে জানায়, তার বাবা ব্রিটিশ-গায়ানিজ। গত কয়েক বছরে জাতিগত পরিচয়ের কারণে তার বাবা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি মৌখিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। দু’টি মিছিল শুরুর আগে উত্তেজনা স্পষ্ট ছিল। কট্টর ডানপন্থী উসকানিদাতারা পাল্টা বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত এলাকায় ঢুকে তাদের অনুসারীদের উদ্দেশে লাইভ সম্প্রচার করছিলেন। ওয়েলসের জন নামের এক শক্তপোক্ত ও দৃঢ়চেতা পাল্টা বিক্ষোভকারী হাত প্রসারিত করে তাদের সামনে দাঁড়ান। পুলিশ সদস্যরা তখন দেখছিলেন।

তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘ওরা এখানে ঝামেলা করতে আসে। অনলাইনে তা থেকে টাকা রোজগার করে। কিন্তু আমি এসেছি বামপন্থীদের রক্ষা করতে। এ লোকগুলো সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। কারণ তারা মনে করে, তারাই একটি শ্রেষ্ঠ জাতি।’ পুলিশের বেষ্টনী-ঘেরা অবস্থায় ব্রিটেন ফার্স্ট মিছিল শুরু হয়। নেতৃত্বে ছিলেন পল গোল্ডিং। তিনি স্থূূলকায় ও আক্রমণাত্মক কট্টর ডানপন্থী কর্মী। ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হয়রানির অভিযোগে তিনি আগে কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। মিছিলটি শুরুতে উদ্যাপনমুখর থাকলেও শহরের কেন্দ্রে পাল্টা বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হওয়ার পর দ্রুত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। মিছিলে ‘বামপন্থীরা নোংরা’ বলে চিৎকার করেন দলটির এক সমর্থক। তারা বসে পড়েন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা তিন তরুণকে হয়রানি করে। দাঙ্গা পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে এবং নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

শেষ পর্যন্ত দুই মিছিল মুখোমুখি হয়। অশ্রাব্য গালাগালিতে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। পুলিশ সারি ধরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল। ব্রিটেন ফার্স্টের বিক্ষোভকারীরা পতাকার দণ্ড দিয়ে পাল্টা বিক্ষোভকারীদের খেঁাঁচা দেয়। কেউ কেউ পুলিশের দুর্বল বেষ্টনী ভেদ করে ঢুকে পড়েন। তারা অভিবাসনবিরোধী ও ফিলিস্তিনবিরোধী স্লোগান দেন। অনেক পাল্টা বিক্ষোভকারী ও পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।