কোচের ইচ্ছের বলী যখন ফুটবলাররা
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
জাতীয় দল ডাকা হলেই কিছু খেলোয়াড় বাদ পড়েন। আবার কিছু নতুন মুখের আশ্রয় হয়। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলও এর বাইরে নয়। কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ বা আসর এলেই ক্যাম্প ডাকার সময় দুই এক যোগ্য ফুটবলার বাদ পড়েন। আবার চমক হিসেবে কিছু নতুন ফুটবলার পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে কোচদের ইচ্ছের বলীই হতে হয়ে খেলোয়োড়দের। এর সর্বশেষ সংযোজন বসুন্ধরা কিংসের এক নম্বর গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা দলটির পোস্টের নিচের অতন্দ্র প্রহরী এই জিকো। অথচ কোচ হাভিয়ার কাবরেরা জিকোকে না ডেকে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুই ম্যাচের জন্য ডেকেছেন বসুন্ধরা কিংসের দ্বিতীয় গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণকে। আবার এ মেহেদী হাসান শ্রাবণ এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলে দুর্দান্ত খেলার পরও জাতীয় দলের মূল একাদশে জায়গা পাননি। তা কাবরেরার পছন্দ না হওয়ায়। কাবরেরার মতোই অতীতে নাসের হেজাজী, জর্জ কোটান, দিয়েগো আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানী, এডসন সিলভা ডিডো, রবার্ট রূপচিচরা বাদ দিয়েছেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে।
১৯৮৯ সালের ইসলামাবাদ সাফ গেমসের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল দলের হেড কোচের দায়িত্ব পান ইরানের তারকা গোলরক্ষক নাসের হেজাজী। সে গেমসের তিনি বাংলাদেশ দলে নেননি স্ট্রাইকার শেখ মোহাম্মদ আসলাম, খন্দকার ওয়াসিম ইকবাল ও গোলরক্ষক মোহাম্মদ মহসিনকে। দলও ফাইনালে হেরে ব্যর্থ। এরপর ১৯৯৩ সালের সাফ গেমসে কোচ ওল্ডরিখ সোয়াব জাতীয় দলে ঠঁাঁই দেননি মিডফিল্ডার সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বিরকে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সেই আসরে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০০৩ সালের সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ দলে কোচ জর্জ কোটান স্থান দেননি ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদকে। বয়স কম এ যুক্তিতে তাকে বাদ দেয়া। যদিও বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন জর্জ কোটানই।
২০০৫ সালের সাফ ফুটবলে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার কথা ছিল লেফট উইংগার তানভীর হোসেনের। সে বার শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের অধিকাংশ গোলেই অ্যাসিস্ট ছিল এ তানভীরের। কিন্তু ক্রুসিয়ানী তাকে দলেই নেননি। উল্টো সংবাদ সম্মেলনে বিরক্তই হন তানভীর বিষয়ে এতো প্রশ্ন করা প্রসঙ্গে। এরপর ২০০৯ সালে ঘরোয়া লিগে স্থানীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন আলফাজ আহমেদ। তবে ব্রাজিলিয়ান কোচ এডসন সিলভা ডিডো এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের জন্য আমলেই নেননি আলফাজকে। তার কাছে সিনিয়র আলফাজের চেয়ে উঠতি বয়সের খেলোয়াড়ই ছিল বেশি পছন্দের। ২০১০ সালে জাতীয় দলের ক্রোয়েশিয়ান কোচ রবার্ট রুপচিচ জাতীয় দলে উপেক্ষার কাতারে রাখেন তারকা ডিফেন্ডার মোহাম্মদ সুজনকে। বর্তমান জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ার কাবরেরা বাংলাদেশ দলে ডাক পাওয়ার পরপরই বাদ দেন স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবনকে। এরপর এ খেলোয়াড়টি মাঠে পারফর্ম করার পরও আর লাল-সবুজ জার্সি গায়ে তোলার সুযোগ পাননি। আর এবার তিনি বাদ দিলেন আনিসুর রহমান জিকোকে। এভাবেই কোচদের ইচ্ছের বলী হয়ে ছিটকে পড়তে হয় প্রতিষ্ঠিত এবং তারকা খেলোয়াড়দের।