কেরানীগঞ্জে কুরিয়ার সার্ভিসকে ঘিরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ওসিসহ আহত ১০
Printed Edition
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘাটারচর এলাকায় স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি হারানো ও চালককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাতে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস, এস আই মোহাম্মদ সোহাগ ও কনস্টেবল জয়নালসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালেও স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। বিচারের দাবিতে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে সড়কে অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের চালক শাহ আলম একটি গাড়ি নিয়ে ঘাটারচর এলাকা থেকে বের হয়। পথে নাশতা করতে গিয়ে গাড়িটি হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি কোম্পানির কার্যালয়ে গিয়ে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গাড়িটি শনাক্ত করার অনুরোধ করলে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা তার কথা বিশ্বাস না করে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও চালকরা স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কুরিয়ার সার্ভিসের অর্ধ শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ওসি আব্দুল কুদ্দুস, এস আই মোহাম্মদ সোহাগ, কনস্টেবল জয়নালসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিক প্রতিনিধি আনোয়ার ও চালক রুবেল বলেন, চালক শাহ আলমের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনেক শ্রমিক কাজে ফিরবেন না।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমি, এস আই সোহাগ ও কনস্টেবল জয়নালসহ কয়েকজন আহত হই। শ্রমিক ও পথচারী মিলিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুত বিষয়টির সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।