রহস্যে ভরা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
- ঘনঘন বন্ধ
- যন্ত্রাংশের মান নিয়ে প্রশ্ন
- উৎপাদনের চেয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ বেশি, দুই বছরে ৪,৬৩৬ কোটি টাকা
- ৫১ ভারতীয় কর্মীর এক মাসের বেতনভাতা ১৩.৭৬ কোটি
বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পকে আধুনিক প্রযুক্তির বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) ৫০:৫০ মালিকানায় গঠিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে। দুই ইউনিটে কেন্দ্রটির অনুমোদিত ক্ষমতা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসে।
কিন্তু বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর কয়েক বছর না যেতেই কেন্দ্রটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে রামপালের কোনো না কোনো ইউনিট ৩০ বার বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ বার যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটি এবং তিনবার কয়লা সঙ্কটকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি কেবল জ্বালানি সঙ্কটের সমস্যা নয়। বারবার টারবাইন, বয়লার, টিউব, ফিডিং ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি দেখা দেয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। অথচ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলেও চুক্তির আওতায় সক্ষমতা-প্রাপ্যতার জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের দায় থাকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে- যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এত প্রশ্ন, তার জন্য জনগণকে কতটা অর্থ দিতে হচ্ছে?
সাত মাসে ছয়বার, আট মাসে আটবার
রামপালের অস্বাভাবিক হারে বন্ধ হওয়ার ইতিহাস নতুন নয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর মাত্র সাত মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি ছয়বার বন্ধ হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬ জুলাই টারবাইনের ত্রুটির কারণে ইউনিট বন্ধ হয়ে চার দিন পর চালু হয়। ৩০ জুলাই আবার কয়লা সঙ্কটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, কয়লা আসার পর ৮ আগস্টের দিকে উৎপাদন আবার শুরু হতে পারে। একই বছরের ডিসেম্বরে ইমপালস টিউব লিকেজের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়। এর আগে নভেম্বরেও যান্ত্রিক সমস্যায় কেন্দ্র বন্ধ হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর অষ্টমবারের মতো বন্ধ হয়েছিল।
আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিআইএফপিসিএলের নিজস্ব নথিতেও বয়লারসংক্রান্ত যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি ২দ্ধ৬৬০ মেগাওয়াট রামপাল প্রকল্পের বয়লার টিউবের জন্য প্রটেকশন শিল্ড ও বয়লার টিউব সংগ্রহের দরপত্র প্রকাশ করে। এগুলো একত্রে দেখলে যন্ত্রপাতির নকশা, উপকরণের মান, নির্মাণ ও কমিশনিংয়ের গুণগত মান, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন দক্ষতা- সব কিছুই স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
‘পুরনো মেশিন’ নয়, তাহলে সমস্যা কোথায়?
রামপালকে পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বলা যাবে না; বরং এটি ৬৬০ মেগাওয়াটের দু’টি ইউনিট নিয়ে নির্মিত আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কেন্দ্র। বিআইএফপিসিএল নিজেও কেন্দ্রটিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করে। তাই কয়েক বছরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে বারবার ত্রুটি দেখা দিলে বিষয়টি কেবল বয়সজনিত ক্ষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন প্রশ্ন ওঠে- নকশা, নির্মাণ, কমিশনিং, যন্ত্রাংশের মান, অপারেশনাল পদ্ধতি অথবা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো স্তরে কি কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রতিটি ইউনিটের অনির্ধারিত বিভ্রাট, পরিকল্পিত বিভ্রাট, ট্রিপের ইতিহাস, বয়লার-টিউব বিকল হওয়া, টারবাইনের ত্রুটি, মেরামত খরচ ও অকার্যকর সময় (ডাউনটাইম) আলাদাভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
দুই বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ ৪,৬৩৬ কোটি
রামপালের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রশ্নটি দেখা যায় এর আয়-ব্যয়ের কাঠামোতে। বিআইএফপিসিএলের আর্থিক প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটি ১.৩৩ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ওই বছর এনার্জি চার্জ বাবদ আয় ছিল প্রায় এক হাজার পাঁচ কোটি টাকা, আর ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল প্রায় এক হাজার ৩৬০ কোটি টাকা; অর্থাৎ উৎপাদিত বিদ্যুতের বিপরীতে পাওয়া অর্থের চেয়েও ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল বেশি।
পরের অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ রামপাল প্রায় ৩.৪৫ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এনার্জি চার্জ ছিল প্রায় দুই হাজার ১৪২ কোটি টাকা এবং ক্যাপাসিটি চার্জ তিন হাজার ২৭৬ কোটি টাকা; অর্থাৎ ওই বছর মোট আয়ের প্রায় ৬৪ শতাংশই এসেছে ক্যাপাসিটি চার্জ থেকে।
দুই অর্থবছরের হিসাব দাঁড়ায়-
অর্থাৎ মাত্র দুই অর্থবছরে রামপালের ক্যাপাসিটি চার্জ হয়েছে চার হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। ৫০:৫০ মালিকানার কাঠামো অনুযায়ী হিসাব করলে এর অর্ধেক, প্রায় দুই হাজার ৩১৮ কোটি টাকা, ভারতীয় অংশীদার এনটিপিসির মালিকানাধীন অংশে পড়ে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। ক্যাপাসিটি চার্জকে সরাসরি ‘বিদ্যুৎ না দিয়েই আয়’ বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। এটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নির্দিষ্ট সক্ষমতায় প্রস্তুত ও প্রাপ্য রাখার জন্য চুক্তিভিত্তিক অর্থ। কিন্তু একটি কেন্দ্র কতটা বাস্তবে উৎপাদন করছে এবং সেই তুলনায় কত ক্যাপাসিটি চার্জ পাচ্ছে- সেটিই মূল প্রশ্ন।
২০২৩-২৪ সালে রামপালের মোট প্রাপ্তি ছিল প্রায় পাঁচ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ তিন হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিটে হিসাব করলে মোট অর্থপ্রাপ্তি দাঁড়ায় প্রায় ১৪.৮৯ টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৯.৪৯ টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ। এখানেই অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যের প্রশ্নটি সবচেয়ে তীব্র।
ভারতীয় জনবলেও বড় ব্যয়
কেন্দ্রটির ব্যয় শুধু ক্যাপাসিটি চার্জে সীমাবদ্ধ নয়। পিডিবির একটি আর্থিক পর্যালোচনায় রামপালে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের বেতনভাতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, রামপালে ৫১ জন ভারতীয় নাগরিককে মোট ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেয়া হয়। গড়ে প্রত্যেকের মাসিক প্রাপ্তি দাঁড়ায় প্রায় ২৬.৯৮ লাখ টাকা। একজন ভারতীয় কর্মকর্তার সর্বোচ্চ মাসিক প্রাপ্তি ছিল ৪৭.৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কর্মদক্ষতা বোনাস, ছুটি নগদায়ন এবং বিদেশী ভাতা ছিল।
শুধু ওই মাসেই কর্মদক্ষতা-ভাতা হিসেবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা এবং বিদেশী ভাতা হিসেবে প্রায় ২.৭ কোটি টাকা দেয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পিডিবির পর্যালোচনায় প্রশ্ন তোলা হয়, কেন্দ্রটি প্রত্যাশিত মাত্রার তুলনায় কম সক্ষমতায় চলা এবং আর্থিকভাবে চাপের মধ্যে থাকাবস্থায় এত বড় কর্মদক্ষতা বোনাসের যৌক্তিকতা কী।
আরো তাৎপর্যপূর্ণ হলো, সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, শীর্ষ ৪০টি পদের মধ্যে ৩২টি পদে ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপনা জনবল যেখানে একই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করেন, সেখানে রামপালে এত সংখ্যক বিদেশী জনবল ও এত উচ্চ পারিশ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা কী?
বিনিয়োগের আকারও কম নয়
রামপাল প্রকল্পটি শুধু পরিচালন ব্যয়ের দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; এর মূলধনী ব্যয়ের আকারও বড়। বিআইএফপিসিএলের তথ্যানুযায়ী, ২দ্ধ৬৬০ মেগাওয়াট প্রকল্পের ইপিসি ঠিকাদার ছিল ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইএল), যার চুক্তিমূল্য ছিল ১.৪৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ প্রকল্পটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একদিকে বিপুল মূলধনী বিনিয়োগ করেছে, অন্য দিকে উৎপাদন-পরবর্তী সময়ে ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি ব্যয়, পরিচালন ব্যয় এবং বিদেশী জনবলের পারিশ্রমিকও বহন করছে।
এ কারণে প্রকল্পটির প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যকারিতা শুধু ‘কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে’ দিয়ে বিচার করলে চলবে না। দেখতে হবে- প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পূর্ণ ব্যয় কত, তার মধ্যে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট কত, কয়লার ব্যয় কত, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কত এবং কেন্দ্রটি কত ঘণ্টা বাস্তবে চালু ছিল।
বারবার বন্ধ হওয়ার আসল কারণ কী?
রামপালের সমস্যাকে এখন আর শুধু ‘কয়লা সঙ্কট’ বলে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। ২০২৩ সালে কয়লা আমদানির অর্থ পরিশোধে ডলার সঙ্কটের কারণে কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি টারবাইন ও অন্যান্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও একাধিকবার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।
সর্বশেষ এক বছরে ৩০টি সাটডাউনের মধ্যে ২৭টিই কারিগরি ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার তথ্য তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এখন দরকার প্রতিটি সাটডাউনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা। কোন তারিখে কোন ইউনিট বন্ধ হয়েছে, কত ঘণ্টা বন্ধ ছিল, ঠিক কোন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে, যন্ত্রাংশ কোথা থেকে কেনা হয়েছে, মেরামতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, ওই সময়ে কয়লা মজুদ কত ছিল, কত ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি এবং একই সময়ে কত ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়েছে- সব তথ্য পাশাপাশি আনতে হবে।
প্রয়োজন স্বাধীন কারিগরি-আর্থিক অডিট
রামপালের প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নয়; এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, অভার ক্যাপাসিটি এবং আমদানিকৃত জ্বালানি নির্ভরতার বৃহত্তর সমস্যার প্রতিচ্ছবি।
ক্যাপাসিটি চার্জ বিদ্যুৎ খাতের স্বাভাবিক চুক্তিগত কাঠামোর অংশ হতে পারে। কিন্তু একটি কেন্দ্র যদি বারবার কারিগরি সমস্যায় বন্ধ থাকে, জ্বালানি সঙ্কটে উৎপাদন করতে না পারে এবং একই সাথে উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ পেতে থাকে, তাহলে সেই চুক্তির অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নতুন করে যাচাই করা জরুরি। রামপালের ক্ষেত্রে তাই তিনটি প্রশ্নের উত্তর এখন অপরিহার্য।
প্রথমত, এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির প্রকৃত নির্ভরযোগ্য উৎপাদনক্ষমতা কত? দ্বিতীয়ত, দুই বছরে চার হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে কত বিদ্যুৎ পেয়েছে এবং সেই বিদ্যুতের পূর্ণ ব্যয় কত দাঁড়িয়েছে? তৃতীয়ত, ৫১ জন ভারতীয় কর্মীর জন্য এক মাসে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ের মতো ব্যবস্থা কতটা যৌক্তিক, যখন একই সাথে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রকৌশলী জনবল বিদ্যুৎ খাতে রয়েছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে হলে স্বাধীন প্রযুক্তিগত ফরেনসিক অডিট, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক পর্যালোচনা এবং জনবল ব্যয়ের বিশেষ নিরীক্ষা করা দরকার। বিশেষ করে ইপিসি চুক্তি, বয়লার-টিউব ও টারবাইন ত্রুটি, যন্ত্রাংশের উৎস ও স্পেসিফিকেশন, ওয়ারেন্টি দাবি, রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি, বিদেশী জনবল, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং প্রতি ইউনিট প্রকৃত ব্যয়- সব কিছুকে একই অডিটের আওতায় আনতে হবে।
কারণ রামপালের প্রকৃত প্রশ্ন এখন শুধু- কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, তা নয়? প্রশ্নটি বরং- যে কেন্দ্র বারবার বন্ধ হচ্ছে, তার জন্য বাংলাদেশ কত টাকা দিচ্ছে; আর সেই অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত সুবিধা পাচ্ছে কে?