বাণিজ্যমেলার ব্যবসায়ী ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের আবাসন সঙ্কট

Printed Edition

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

পূর্বাচল উপশহরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরে প্যাভিলিয়ন ও স্টলের ব্যবসায়ী-কর্মচারী এবং বিক্রয় প্রতিনিধিরা গত বছরের মতো এবারো আবাসিক সঙ্কটে পড়েছেন। বাণিজ্যমেলা উপলে আশপাশের এলাকার বাড়িভাড়া আকাশছোঁয়া হয়ে যায়।

সরেজমিন জানা গেছে, পূর্বাচল উপশহরের প্লটগুলোতে এখনো আশানুরূপ ঘরবাড়ি নির্মাণ না হওয়ায় এ এলাকায় আবাসিক সঙ্কট রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাড়ি ভাড়া না পেয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কিন্তু সকাল থেকেই স্টল-প্যাভিলিয়নের পণ্য সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে হয়। প্রতিদিন রাত ৯টায় আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টায় মেলার কেনাবেচা বন্ধ হয়। এরপর কর্মচারী ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের স্টল-প্যাভিলিয়ন গুছিয়ে রাখতে আরো দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। তাতে তাদের ঘুমানোর তেমন সময় থাকে না বললেই চলে। মেলার আশপাশে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে পারলে ঘুমানোর একটু সময় পাওয়া যায়। তাই বাধ্য হয়ে চড়া দামেই বাসা ভাড়া নিয়েই তারা থাকছেন।

রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের পিতলগঞ্জ, শিমলিয়া, জিন্দা, কালনি, গোবিন্দপুর, ইছাপুরা, কদুর মার্কেট, জাঙ্গীর, ব্রাহ্মণখালী, মধুখালী, হারিন্দা, কুলিয়াদী, বাঘবের, সিডি মার্কেট, মাঝিপাড়া, গোয়ালপাড়া, মায়ারবাড়ি, কাঞ্চনসহ আশপাশের এলাকায় একটি ফ্যাটের ভাড়া সাধারণত প্রতি মাসে আট-দশ হাজার টাকা। তবে মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের কাছে দুই করে একটি ফ্যাটের ভাড়া এক মাসের জন্য নেয়া হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

তা ছাড়া রাত ১০টার পর বিআরটিসির বাস বাণিজ্যমেলা এলাকায় না যাওয়াতে বাধ্য হয়ে ৪০ টাকার বাসভাড়ার স্থলে ৩০০-৪০০ টাকা খরচে কুড়িল আসতে হয়।

পূর্বাচলে ২০২২ সাল থেকেই মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের পাঁচ গুণ বাড়িভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে।

মেলার পাশের শিমুলিয়া গ্রামের বাড়ির মালিক রুহুল আমিন বলেন, পূর্বাচল উপশহরের আবাসিক বাড়িঘর এখনো নির্মাণ হয়নি। আমাদের ফ্যাট সারা বছর খালি পড়ে থাকে।

একটি বাড়িতে সারা বছর অনেক খরচ রয়েছে। মেলার সময় এক মাসের জন্য আমরা কিছুটা ভাড়া বাড়িয়ে সারা বছরের তি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। আমরা ভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে নিলেও চেষ্টা করি ভাড়াটিয়াদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে।

স্টল মালিক সাইদুর রহমান বলেন, মিরপুর ১ নম্বর থেকে প্রতিদিন মেলায় যাতায়াত করতে হয় এবং বাসায় পৌঁছতে কোনোদিন রাত ২টা বেজে যায়। তা ছাড়া মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়ন কর্মচারী এবং বিক্রয় প্রতিনিধির সংখ্যা প্রায় ছয়/সাত হাজার।

সরকারিভাবে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের থাকার জন্য স্থায়ীভাবে মেলা প্রাঙ্গণে বাড়ি নির্মাণ করার জন্য ঊর্র্ধ্বন কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, পূর্বাচল-ঢাকা সড়ক এখন অনেক ভালো। ব্যবসায়ীরা চাইলে ঢাকায়ও বসবাস করতে পারেন।