যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী ছাত্রী বৃষ্টির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত রোববার রাতে ট্যাম্পা বে এলাকার একটি সেতুর কাছ থেকে বৃষ্টির লাশ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে ফ্লোরিডা পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার একই এলাকা থেকে জামিল লিমন নামের একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সিবিএসের প্রতিবেদনে তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে এই দুই শিক্ষার্থী একসাথে নিখোঁজ হন। লিমনের ২৬ বছর বয়সী রুমমেট হিশাম আবুঘরবেকে এই জোড়া খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালত সূত্রে জানা যায়, লিমনের লাশ একটি ব্রিজের নিচে পচন ধরা অবস্থায় ট্র্যাশ ব্যাগে ভরা ছিল। প্রসিকিউটরদের ধারণা, নাহিদা বৃষ্টিকেও একইভাবে হত্যা করে তার লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। ঘাতক হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীকে ঠিক কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।

ফ্লোরিডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাম্পা বে ২৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একের পর এক রোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত হিশাম নিজের অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে লিমন ও বৃষ্টিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করে। লিমনের শরীরে অসংখ্য জখম পাওয়া গেছে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, সাক্ষাৎকার ও প্রমাণের ভিত্তিতে দেখা যায়, হিশাম একটি ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে লিমন ও বৃষ্টিকে একাধিকবার আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে।

নথি অনুযায়ী, খুনের পর হিশাম অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। তিনি আগে থেকে কিনে রাখা কালো রঙের বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে লিমনের লাশ ভরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে ফেলে দিয়ে আসেন। দু’জনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও হিশাম ডাস্টবিনে ধ্বংস করে ফেলেন।

তদন্তকারীরা হিশামের মোবাইল ফোন ও গাড়ির জিপিএস ট্র্যাকিং পরীক্ষা করে দেখেছেন, খুনের সময় এবং লাশ ফেলার সময় হিশামের অবস্থান ঠিক সেই সব এলাকায় ছিল। খুনের কয়েক দিন আগে হিশাম কিভাবে মানুষকে মারা যায় এবং প্রমাণ নষ্ট করা যায়, এমন সব বিষয় ইন্টারনেটে সার্চ করেছিলেন এবং খুনের সরঞ্জাম কিনেছিলেন। উদ্ধারকৃত রক্তের ফরেনসিক পরীক্ষায় লিমন ও বৃষ্টি উভয়ের ডিএনএ পাওয়া গেছে। আইনজীবীরা বলছেন, হিশাম পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে এবং আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় ফ্লোরিডা পুলিশ হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যার (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার) দু’টি অভিযোগ এনেছে।