বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং সাবেক যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পালিত হবে। এ উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

মাহবুব আলী খান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর। নৌ সদর দপ্তরের পাশে তাকে দাফর করা হয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাহবুব ভবনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ধানমন্ডির বায়তুল আমান ও তাকওয়া জামে মসজিদ, আজিমপুর দায়রা শরিফ মসজিদ, মহাখালী ডিওএইচএস জামে মসজিদ, হাইকোর্ট মাজার মসজিদ এবং ভাসানটেকের বাইতুল মোয়াল্লা জামে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কোরআন খতম ও খাবার বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে।

সিলেটে তার জন্মস্থান দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুরেও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া ও জামালপুরের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

বিদেশেও মাহবুব আলী খানের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালদ্বীপের বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

১৯৩৪ সালের ৩ নভেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন মাহবুব আলী খান। ১৯৫২ সালে তিনি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের ডার্টমাউথ রয়্যাল নেভাল কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং প্রশিক্ষণব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে শাহজালাল সেতু, লামাকাজী সেতু ও শেওলা সেতুসহ সিলেট অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রম তদারকির সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন ৬ আগস্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।