বাংলাদেশের অর্থনীতি এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে শুধু নতুন বিনিয়োগের অপেক্ষায় থাকলে চলবে না; ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা কিন্তু অচল হয়ে পড়া উৎপাদনক্ষমতাকেও দ্রুত কাজে লাগাতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ বন্ধ। মূলধন সঙ্কট, ব্যাংক ঋণের জটিলতা, বাজার সঙ্কোচন, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধ ইত্যাদি নানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন থেমে আছে।
একটি কারখানা বন্ধ হওয়া শুধু একটি ব্যবসার ব্যর্থতা নয়; এর সাথে অচল হয়ে পড়ে জমি, ভবন, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ। বেকার হন শ্রমিক; ক্ষতিগ্রস্ত হন কাঁচামাল সরবরাহকারী, পরিবহন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাত। ব্যাংকের ঋণও আটকে যায়। ফলে একটি বন্ধ কারখানা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বহুমুখী প্রভাব ফেলে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচি নিঃসন্দেহে বড় উদ্যোগ। ২৩ মে ২০২৬ বন্ধ কারখানা চালু, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আশা করছেন, এর মাধ্যমে ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি ব্যাংক ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিলে অংশগ্রহণের চুক্তি করেছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে দেয়ার কথা। অর্থাৎ এটি পুরোপুরি সরকারি বাজেটনির্ভর কর্মসূচি নয়; একটি বড় অংশ আসছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে। ফলে ব্যাংকের তারল্যকে উৎপাদনশীল খাতে পুনর্নির্দেশ করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ১০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, রফতানি বহুমুখীকরণে তিন হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরাঞ্চলকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ব্যয় কমাতে ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকির সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।
কিন্তু এখানেই মূল প্রশ্ন, এই ৬০ হাজার কোটি টাকা কি সত্যিই উৎপাদন বাড়াবে, নাকি পুরনো সমস্যাকে নতুন ঋণের মাধ্যমে আরো কিছু দিন টিকিয়ে রাখবে? নীতিনির্ধারকদের প্রথমেই একটি বিষয় স্পষ্ট করতে হবে, বন্ধ কারখানা মানেই পুনরুজ্জীবনযোগ্য কারখানা নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক তারল্য সঙ্কটে বন্ধ হয়ে থাকলে এবং তার পণ্যের বাজারে চাহিদা থাকলে সীমিত অর্থায়নেই সেটিকে দ্রুত উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব। কিন্তু অতিরিক্ত ঋণের বোঝায় জর্জরিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধু নতুন ঋণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন হতে পারে ঋণ পুনর্গঠন, উদ্যোক্তার নতুন মূলধন, ব্যবস্থাপনা সংস্কার কিংবা নতুন অংশীদার।
আবার কোনো কারখানা প্রযুক্তিগতভাবে অচল, উৎপাদন ব্যয় অত্যধিক অথবা বাজারে প্রতিযোগিতায় অক্ষম হলে পুরনো কাঠামোয় তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হবে অর্থের অপচয়। সেখানে প্রয়োজন প্রযুক্তি আধুনিকীকরণ, নতুন বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক মডেলের পরিবর্তন কিংবা সম্পদের বিকল্প ব্যবহার। মালিকানা বিরোধ, ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বা শ্রমিক সমস্যার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে অর্থ দেয়ার আগে মূল সমস্যার সমাধান করতে হবে।
অতএব, অর্থায়নের আগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন আর্থিক, কারিগরি ও বাজারভিত্তিক মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। সম্পদের প্রকৃত মূল্য, মোট দায়, ব্যাংক ঋণ, খেলাপি ঋণ, উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধন, উৎপাদনক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয় ও বাজার সম্ভাবনা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি যন্ত্রপাতির অবস্থা, জ্বালানি চাহিদা, কাঁচামালের উৎস এবং সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যও বিবেচনায় নিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে, আবার উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে নিজের আয় ও নগদ প্রবাহ থেকে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কি না। ব্যবসাটি টেকসই না হলে নতুন ঋণ দিয়ে তাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা উচিত নয়।
এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধন নিশ্চিত করাও জরুরি। শুধু ব্যাংকের অর্থ দিয়ে পুরনো ব্যবসায় চালুর সুযোগ দিলে ঝুঁকি শেষ পর্যন্ত ব্যাংক ও অর্থনীতির ওপরই পড়ে। বিশেষ করে বড় ঋণের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগ, ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং প্রয়োজনে নতুন অংশীদার গ্রহণের মতো শর্ত থাকা উচিত। কারণ ঋণ মূলধনের বিকল্প নয়। পর্যাপ্ত নিজস্ব মূলধন ছাড়া অতিরিক্ত ঋণের ওপর দাঁড়ানো ব্যবসায় ভবিষ্যতের সামান্য বাজার সঙ্কটেও আবার সমস্যায় পড়তে পারে।
শিল্প পুনরুজ্জীবনের সাথে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার সম্পর্কও সরাসরি যুক্ত। দেশের বেসরকারি খাত এখনো প্রধানত ব্যাংকনির্ভর। ব্যাংক দুর্বল হলে ভালো উদ্যোক্তাও প্রয়োজনীয় অর্থ পান না; আবার ঋণ মূল্যায়ন দুর্বল হলে অযোগ্য প্রকল্পও অর্থ পেয়ে যায়। তাই ৬০ হাজার কোটি টাকার কর্মসূচিকে ব্যাংকিং সংস্কার থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। ঋণ মূল্যায়নে পেশাদারিত্ব, পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রকৃত খেলাপি ঋণ শনাক্তকরণ এবং ঋণ আদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগে ব্যাংকের সম্পদের প্রকৃত মান নির্ণয়, ব্যাংক পুনর্গঠন ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকও ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের আর্থিক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প অনুমোদন করেছে। ফলে শিল্প পুনরুজ্জীবনের অর্থায়ন ও ব্যাংক সংস্কারকে পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে।
তবে ব্যাংকিং সংস্কার বা সস্তা ঋণ একাই শিল্প উৎপাদন বাড়াতে পারে না। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে, বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হলে, বন্দরে কাঁচামাল আটকে থাকলে কিংবা পরিবহন ব্যয় অত্যধিক হলে সস্তা ঋণও উৎপাদনে রূপ নেবে না। বরং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাই দুর্বল হবে। তাই কোনো কারখানাকে অর্থায়নের আগে শুধু তার আর্থিক হিসাব নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাস-বিদ্যুৎ, বন্দর, পরিবহন ও অন্যান্য অবকাঠামোর সক্ষমতাও যাচাই করতে হবে। শিল্প পুনরুজ্জীবনকে একক ঋণ কর্মসূচি হিসেবে না দেখে উদ্যোক্তার মূলধন, জ্বালানি, অবকাঠামো, কাঁচামাল, দক্ষ শ্রমিক, বাজার ও স্থিতিশীল নীতির সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে দেখতে হবে।
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা একসাথে বিতরণ না করে ধাপে ধাপে দেয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক, কারিগরি ও বাজারভিত্তিক মূল্যায়ন; বাস্তবসম্মত পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা; উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধন নিশ্চিতকরণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা যেতে পারে। অর্থাৎ লক্ষ্য অর্জনভিত্তিক অর্থায়ন চালু করা প্রয়োজন। কোনো কারখানা চালু করতে ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলে প্রথমে যন্ত্রপাতি মেরামত ও কাঁচামালের জন্য ৩০ কোটি টাকা, উৎপাদন শুরু হলে পরবর্তী কিস্তি এবং নির্দিষ্ট উৎপাদন, বিক্রয় ও নগদ প্রবাহের লক্ষ্য অর্জিত হলে অবশিষ্ট অর্থ দেয়া যেতে পারে। এতে ব্যাংকের ঝুঁকি কমবে এবং উদ্যোক্তার জবাবদিহি বাড়বে।
অর্থায়নের পরও নজরদারি রাখতে হবে। কত শ্রমিক কাজে ফিরেছে, উৎপাদন ও বিক্রয় কত বেড়েছে, রফতানি ও রাজস্ব কতটা বেড়েছে এবং ঋণ কতটা নিয়মিত পরিশোধ হচ্ছে, এসব সূচকের ভিত্তিতে প্রকল্পের কার্যকারিতা পরিমাপ করতে হবে। একই সাথে নতুন বিনিয়োগকারী ও নতুন মালিকানার সুযোগও রাখা জরুরি। কোনো পুরনো উদ্যোক্তা ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যর্থ হলেও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও বাজার সম্ভাবনা থাকলে নতুন উদ্যোক্তা বা কৌশলগত বিনিয়োগকারীকে সেখানে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। পুনরুজ্জীবন মানে সবসময় পুরনো মালিককে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া নয়; কখনো এর অর্থ নতুন মালিকানা, নতুন ব্যবস্থাপনা ও নতুন ব্যবসায়িক মডেল।
সরকারকেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ, কাঁচামাল আমদানির সুবিধা, ঋণপত্র খোলার সক্ষমতা, দক্ষ বন্দর, যৌক্তিক কর ও শুল্কব্যবস্থা, দ্রুত অনুমোদন এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা শুধু ঋণের সুদের হার দিয়ে নির্ধারিত হয় না; উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি, অবকাঠামো, করব্যবস্থা, অনুমোদন ও নীতির স্থিতিশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পুরনো খেলাপি ঋণকে নতুন ঋণে পরিণত করা। দেশের ব্যাংকিং খাতে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন কিংবা নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে দুর্বল প্রতিষ্ঠানকে কৃত্রিমভাবে টিকিয়ে রাখার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। ৬০ হাজার কোটি টাকার কর্মসূচিও যদি সেই সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়, তাহলে উৎপাদন পুনরুদ্ধারের বদলে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি আরো বাড়বে। যেমন, কোনো প্রতিষ্ঠানের ৫০০ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৪০০ কোটি টাকা খেলাপি এবং ব্যবসায়িক মডেল কার্যত অকার্যকর হলে তাকে আরো ২০০ কোটি টাকা ঋণ দিলেই প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে পুনরুজ্জীবিত হবে না। উৎপাদন, বিক্রয় ও নগদ প্রবাহ না বাড়লে নতুন ঋণও একসময় খেলাপি হবে। তাই প্রকৃত ব্যবসায় পুনর্গঠন এবং পুরনো ঋণ ঢাকার জন্য নতুন ঋণ দেয়ার মধ্যে কঠোর পার্থক্য করতে হবে।
কর্মসূচির সাফল্য কত টাকা বিতরণ হয়েছে তা দিয়ে বিচার করা যাবে না। এর সুফল কতটা সেটা দেখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে বছরে অন্তত দু’বার কর্মসূচির ফলাফল প্রকাশ করা। নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে ফিরতে ব্যর্থ প্রকল্পে পরবর্তী অর্থ ছাড় বন্ধ করতে হবে; বিপরীতে সফল প্রকল্পকে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থায়নের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ৬০ হাজার কোটি টাকার উদ্যোগটি বড় একটি সুযোগ। বিনিয়োগের স্থবিরতা, বন্ধ কারখানা, কর্মসংস্থানের চাপ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার মধ্যে উৎপাদনশীল খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো দরকার। অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর বন্ধ প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে পারলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন, ব্যাংক ঋণ পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু সুযোগের সাথে ঝুঁকিও বড়। অর্থের বড় অংশ আসছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে। সেই অর্থ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে গিয়ে নগদ প্রবাহ সৃষ্টি করলে এবং ঋণ ফেরত এলে অর্থনীতিতে শক্তিশালী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যথায় আজকের সমাধানই আগামী দিনে ব্যাংকিং সঙ্কটের কারণ হতে পারে।
নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে, সব বন্ধ কারখানা বাঁচানোর প্রয়োজন নেই; বাঁচাতে হবে সেই প্রতিষ্ঠানকে, যার উৎপাদন ক্ষমতা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ নগদ প্রবাহ অর্থনৈতিকভাবে টেকসই। সাময়িক তারল্য সঙ্কটে থাকা প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত অর্থায়ন করতে হবে, পুনর্গঠনযোগ্য প্রতিষ্ঠানে নতুন মূলধন, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা আনতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ দিয়ে কৃত্রিমভাবে টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে নতুন বিনিয়োগকারী, নতুন মালিকানা কিংবা সুশৃঙ্খল সম্পদ পুনর্বিন্যাসের পথে যেতে হবে।
নতুন কারখানা নির্মাণের তুলনায় বিদ্যমান উৎপাদনক্ষমতা কাজে লাগানো অনেক ক্ষেত্রে দ্রুততর ও কম ব্যয়সাপেক্ষ। তাই এই কর্মসূচি অর্থনীতিকে নতুন গতি দেয়ার শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।
এটি শুধু অর্থায়ন কর্মসূচি নয়, এটি দেশের অচল উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের বড় পরীক্ষা। বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থের সংস্থান করা নয়, অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। অর্থের প্রবাহ নয়, উৎপাদনের প্রত্যাবর্তনই হতে হবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্যের মানদণ্ড।
লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট