চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত পাঁচ বছরে সরকারি বরাদ্দের অর্থ লোপাটের যে চিত্র বেরিয়ে এসেছে; তা সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি অনাকাক্সিক্ষত দিক।
নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাগজ-কলমে শত শত অপারেশন, যন্ত্রপাতি মেরামত, বিপুল পরিমাণ ওষুধ ক্রয় ও বেতন প্রদানের হিসাব থাকলেও বাস্তবে অপারেশন থিয়েটার পড়ে আছে অকেজো। রোগীরা পাচ্ছেন না বরাদ্দের ওষুধ। এমনকি আয়া-সুইপারদের বেতনের টাকাও ভাগ হয়ে যাচ্ছে কর্মকর্তাদের পকেটে। বিগত পাঁচ বছরে অন্তত চার কোটি টাকা ভুয়া খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমন দুর্নীতিতে সরকারের সরবরাহ করা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি বছর ওটি যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। শুধু ২০১৯-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এ খাতে খরচ দেখানো হয় ২১ লাখ টাকা। সার্জিক্যাল মালামাল ক্রয়ে দেখানো হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। অথচ হাসপাতালের বাস্তব অবস্থা বলছে ভিন্ন কথা। গত পাঁচ বছরে ইডিসিএল-বহির্ভূত ওষুধ ও অন্যান্য মালামাল ক্রয়ের বিল দেখানো হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। একেক অর্থবছরে ৪৫-৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ওষুধের বরাদ্দ এলেও রোগীরা সেগুলো কখনো পাননি। বরাদ্দ করা ২০ হাজার আইভি ক্যানোলা কিনতে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে- কাগজে দেখানো হয়েছে দামি ক্যানোলা, বাস্তবে সরবরাহ করা হয়েছে সস্তা মানের।
নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন মতে, এসব অপকর্মের মূল হোতা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: হেলেনা আক্তার নিপা। তার সহযোগী হাসান আহমেদ এবং বর্তমান স্টোরকিপার হুমায়ুন কবীর। এ ছাড়া সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আবু হেনা মোস্তফা জামালের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। গত পাঁচ বছর যাবৎ এসব দুর্নীতি হয়ে এলেও জেলা সিভিল সার্জনের কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেয়া হতাশাজনক।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্নীতির কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মানে অবনতি ঘটছে। প্রশ্ন হচ্ছে- স্বাস্থ্য অধিদফতর কি বিষয়গুলো তদারকি করে না? প্রায় প্রতিদিন দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা এমনকি জেলাপর্র্যায়ের স্বাস্থ্য সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সঙ্কটের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সেগুলোর খুব বেশি সমাধান করছে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে আমরা স্বাস্থ্য প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ চাই। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য প্রশাসনের কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই।