জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে বিভিন্ন ব্লকে নতুন কূপ খননসহ অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো: আবদুল মান্নান বলেন, ‘বর্তমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলা এবং চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
তিনি বলেন, জ্বালানির চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে নতুন কূপ খনন করে গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ১৫০টি কূপে খনন ও ‘ওয়ার্কওভার’ কার্যক্রমের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৭০ দশমিক আট মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ পর্যন্ত এ গ্যাসের মধ্যে ১৩৯ দশমিক ছয় এমএমসিএফডি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তিনি আরো জানান, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় অবশিষ্ট চারটি কূপে বর্তমানে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চলছে।
পেট্রোবাংলার আশা, এসব কাজ সফলভাবে শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব হবে।
পেট্রোবাংলার মুখপাত্র তারিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় তিন হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে প্রায় দুই হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো জোরদার করার চেষ্টা করছি।’
নতুন অর্থবছরের বাজেটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে দুই হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, সরকার একইসাথে স্থলভাগ ও সমুদ্র উভয় এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির (পিএসসি) আওতায় অগভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোতে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) অংশগ্রহণে দরপত্রও আহ্বান করেছে সরকার। বাসস