সারা দেশে এবার তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে থাকছে না বিদ্যুৎ। গরমে অসহ্য হয়ে উঠছেন গ্রামের মানুষ। শহরে বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে অন্ধকারে থাকছে গ্রামাঞ্চল। পরিস্থিতি এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কাগজে-কলমে যে তথ্যই দেয়া হোক না কেন, বাস্তবচিত্র ভয়াবহ। দেশের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৮-২৯ হাজার মেগাওয়াট। গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ঘাটতিতে উৎপাদন হচ্ছে চাহিদার অর্ধেকের কাছাকাছি। ফলে দৈনিক দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ ঘাটতির পুরো ধকল গিয়ে পড়ছে গ্রামীণ জনপদে।

বিদ্যুৎসঙ্কটের শিকার হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষার এই চূড়ান্ত মুহূর্তে পরীক্ষার্থীদের দিন-রাত এক করে পড়ার টেবিলে থাকার কথা। কিন্তু এ সময় দিনে ১২-১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। নেত্রকোনার কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ ঘণ্টাই থাকছে বিদ্যুৎহীন, এমন খবর প্রকাশ করেছে নয়া দিগন্ত। এতে ইন্টারনেটনির্ভর পড়াশোনা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এমনকি চার্জলাইট বা মোমবাতির আলোয় পড়ার ন্যূনতম পরিবেশটুকুও পাচ্ছে না তারা।

মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ঘুমের সময়। অনেকে ভোরে ওঠে শেষ রিভিশনটুকু দিতে পছন্দ করে। কিন্তু ওই সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। শহরের শিক্ষার্থীরা যখন এয়ার কন্ডিশনার কিংবা নিরবচ্ছিন্ন ফ্যানের নিচে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন গ্রামের শিক্ষার্থীদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে পড়তে হচ্ছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন এলাকাগুলোতে চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ মিলছে। এতে ফুঁসে উঠছেন গ্রামের মানুষ। কোথাও কোথাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন এবং বিদ্যুৎ অফিসে হামলার মতো ঘটনাও ঘটছে।

বিদ্যুতের এই সঙ্কটে কেবল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাই বন্ধ হচ্ছে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। ব্যাহত হচ্ছে আউশ ও আমনের সেচকার্যক্রম। ক্ষুদ্র ব্যবসা এখন হুমকিতে। নরসিংদীর মাধবদীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন করতে না পারায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে।

আমরা মনে করি, অবিলম্বে বিদ্যুৎবৈষম্য দূর করতে হবে। অন্ততপক্ষে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন যাতে শিক্ষার্থীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সন্ধ্যা ও রাতে পড়াশোনা করতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। জ্বালানি আমদানির সঙ্কট কাটিয়ে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে। সরকারের উচিত আশ্বাসের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া, যেন দেশের লাখো পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে না যায়।বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ালেখা ব্যাহত

বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিন

সারা দেশে এবার তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে থাকছে না বিদ্যুৎ। গরমে অসহ্য হয়ে উঠছেন গ্রামের মানুষ। শহরে বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে অন্ধকারে থাকছে গ্রামাঞ্চল। পরিস্থিতি এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কাগজে-কলমে যে তথ্যই দেয়া হোক না কেন, বাস্তবচিত্র ভয়াবহ। দেশের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৮-২৯ হাজার মেগাওয়াট। গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ঘাটতিতে উৎপাদন হচ্ছে চাহিদার অর্ধেকের কাছাকাছি। ফলে দৈনিক দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ ঘাটতির পুরো ধকল গিয়ে পড়ছে গ্রামীণ জনপদে।

বিদ্যুৎসঙ্কটের শিকার হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষার এই চূড়ান্ত মুহূর্তে পরীক্ষার্থীদের দিন-রাত এক করে পড়ার টেবিলে থাকার কথা। কিন্তু এ সময় দিনে ১২-১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। নেত্রকোনার কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ ঘণ্টাই থাকছে বিদ্যুৎহীন, এমন খবর প্রকাশ করেছে নয়া দিগন্ত। এতে ইন্টারনেটনির্ভর পড়াশোনা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এমনকি চার্জলাইট বা মোমবাতির আলোয় পড়ার ন্যূনতম পরিবেশটুকুও পাচ্ছে না তারা।

মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ঘুমের সময়। অনেকে ভোরে ওঠে শেষ রিভিশনটুকু দিতে পছন্দ করে। কিন্তু ওই সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। শহরের শিক্ষার্থীরা যখন এয়ার কন্ডিশনার কিংবা নিরবচ্ছিন্ন ফ্যানের নিচে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন গ্রামের শিক্ষার্থীদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে পড়তে হচ্ছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন এলাকাগুলোতে চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ মিলছে। এতে ফুঁসে উঠছেন গ্রামের মানুষ। কোথাও কোথাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন এবং বিদ্যুৎ অফিসে হামলার মতো ঘটনাও ঘটছে।

বিদ্যুতের এই সঙ্কটে কেবল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাই বন্ধ হচ্ছে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। ব্যাহত হচ্ছে আউশ ও আমনের সেচকার্যক্রম। ক্ষুদ্র ব্যবসা এখন হুমকিতে। নরসিংদীর মাধবদীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন করতে না পারায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে।

আমরা মনে করি, অবিলম্বে বিদ্যুৎবৈষম্য দূর করতে হবে। অন্ততপক্ষে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন যাতে শিক্ষার্থীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সন্ধ্যা ও রাতে পড়াশোনা করতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। জ্বালানি আমদানির সঙ্কট কাটিয়ে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে। সরকারের উচিত আশ্বাসের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া, যেন দেশের লাখো পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে না যায়।