ঢাকার অনতিদূরে আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে একটি চীনা কোম্পানি। আগামী দেড় বছরের মধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে আশা করা হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন মূল বিষয় নয়; এর প্রধান উদ্দেশ্য মূলত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। উপজাত হিসেবে তা থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তা বাড়তি।

গৃহস্থালি কাজ থেকে উৎপন্ন আবর্জনা দেশের বড় শহরগুলোর জন্য বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় শহরের পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এর ভাগাড় বিপুল জায়গা দখল করছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়টি এই আঙ্গিকে দেখতেই সমীচীন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সাথে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর গত বৃহস্পতিবার বৈঠকের পর এ ব্যাপারে অগ্রগতির কথা জানানো হয়। প্রকল্প চালু হলে তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে প্রতিদিন ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানি এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে চুক্তিটি সই হবে।

প্রশ্ন তোলা হয়েছে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম নিয়ে। আরো কিছু বিষয় সামনে রাখা দরকার; যেগুলো এড়িয়ে যাওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না। আবর্জনা ধ্বংস করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে; যা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করে। এছাড়া অনেক জায়গা দখল করে রাখে। বিদ্যুতের পাশাপাশি প্রকল্পটি থেকে জৈবসার পাওয়া যাবে। বিনিয়োগের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা ল্যান্ডফিল্ড ভাড়াবাবদ সিটি করপোরেশনের টাকাও পরিশোধ করবে। এজন্য কর্তৃপক্ষের কোনো খরচ নেই। তারপরও উপজাত হিসেবে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তার দাম বেশি কি না তা যাচাই করতে হবে। ইউনিটপ্রতি ২৫ টাকা দিয়ে তা কিনতে হবে। যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ অন্যান্য সূত্র থেকে সর্বোচ্চ ১২Ñ১৫ টাকায় কেনা হয়।

এ ব্যাপারে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চীনা কোম্পানির সাথে চুক্তি হয়েছিল। সেখানেও ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ২১ টাকা ২৯ পয়সার বেশি ছিল। ২০২৫ সালে প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা ছিল। সময়মতো তা বাস্তবায়িত হয়নি। আবর্জনা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দামকে গুরুত্বপূর্ণ করে যেভাবে সামনে আনা হচ্ছে, কুইক রেন্টাল এবং আদানি থেকে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে বিদ্যুৎ কেনার সময় বিষয়গুলো সেভাবে সামনে আনা হয়নি। জনস্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সেই সময় যে পাহাড়সম অনিয়ম দুর্নীতি করা হয়েছে; সেগুলো জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে আজকে দেশ এভাবে জ্বালানি সঙ্কটে খাবি খেত না।

বড় শহরগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। পরিবেশসম্মত উপায়ে সেগুলো নিষ্কাশনের পথ খুঁজতে হবে। সাথে যদি বাড়তি পাওনা হিসেবে বিদ্যুৎ ও জৈবসার পাওয়া যায়; তা সোনায় সোহাগা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও চীনা কোম্পানির সাথে আলোচনা চলছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে আমাদের জন্য পরিবেশের দিক থেকে লাভজনক। তবু উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম যাতে অযৌক্তিক না হয়, তাও বিবেচনায় নিতে হবে। আবার এ কথাও মনে রাখা দরকার যে, কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত যেন এই কাজগুলো পিছিয়ে না দেয়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।