আমাদের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী যে রেমিট্যান্স পাঠান তা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কোনো সেবা নিতে গেলে কাক্সিক্ষত সেবা পান না, এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এর মধ্যে নতুন উৎপাত হিসেবে হাজির হয়েছে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী পতিত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজে উদাসীনতা। এ ছাড়া জনশক্তি রফতানি ঘিরে গড়ে ওঠা দুষ্টচক্র তো রয়েছেই।
নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে গাছাড়া ভাব লক্ষ করছেন সেবা নিতে যাওয়া নানা পেশার প্রবাসী। কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হাইকমিশন ও দূতাবাসসংশ্লিষ্টদের মতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আমলে মিশনগুলোতে নানা উপায়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন। তারা মূলত যতটা পারছেন গা বাঁচিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। এর প্রভাব পড়ছে কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমানো প্রবাসীদের ওপর। সেই সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত প্রবাসী ব্যবসায়ীদের সেবায়।
বিশ্বে বাংলাদেশের যতগুলো শ্রমবাজার রয়েছে এর মধ্যে প্রধান সৌদি আরব। এ মুহূর্তে দেশটিতে ২৫ লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মী অবস্থান করছেন। তাদের কতজন বৈধভাবে যাওয়ার পর আনডকুমেন্ট অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এর সঠিক তথ্য রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জেদ্দার কনসাল জেনারেল অফিস বা ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নেই। শুধু তাই নয়, কতজন শ্রমিক দেশটিতে যাওয়ার পর এখনো বেকার রয়েছেন এবং আউটপাস না পেয়ে কতজন দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন এরও কোনো সঠিক হিসাব নেই। কেবল সৌদি আরব নয়, কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসেও স্থবিরতা বিরাজ করছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনেও একই অবস্থা। হাইকমিশনের যারা আওয়ামী আমলে নিয়োগ পেয়েছেন তারা অভ্যুত্থানের পর থেকে অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এমন স্থবিরতায় মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে প্রাপ্য সেবা পাচ্ছেন না। দুঃখজনক হলো মিশনগুলো ঘিরে গড়ে ওঠা দুষ্টচক্রের মাধ্যমে যারা পাসপোর্ট নবায়ন থেকে শুরু করে অন্য সব সেবা নিতে আসছেন তাদের কাজ দ্রুত হয়ে যাচ্ছে।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো পুষতে দেশের বিপুল অর্থ খরচ হয়। এ অর্থ ব্যয় করা হয় দেশের ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল করতে এবং প্রবাসীদের সেবা দেয়ার জন্য। দূতাবাসগুলো যেন বাংলাদেশীদের সুযোগ-সুবিধা ভিন দেশে নিশ্চিত করতে পারে এ জন্য দেশের মানুষ এই অর্থ ব্যয়কে যৌক্তিক মনে করেন। কিন্তু বিদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা কী করছেন তা প্রবাসীরা হাড়ে হাড়ে টের পান।
সঙ্গত কারণে আমরা মনে করি, প্রবাসীদের কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করতে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে। তাদের যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।