সিঙ্গাইরে সেনাবাহিনীর মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
first-4
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনের সময় প্রশিক্ষণ এলাকা ঘুরে দেখেন : পিআইডি

মানিকগঞ্জ ও সিঙ্গাইর প্রতিনিধি, বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সাথে দীর্ঘ সময় কাটান। তিনি গতকাল সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন। এরপর পুরো মহড়া এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিনি।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন।

প্রধানমন্ত্রী একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা (ঠবৎনধষ ঙৎফবৎ) মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ (জধরফ) মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন। সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সাথে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সাথে চা পান করেন। মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সাথে সরকারপ্রধান দীর্ঘ সময় কাটানোয় উপস্থিত সেনাসদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।’ জাতীয় সঙ্কট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক, সাভার সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক, ৮১ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফেরদৌস মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, ৭১ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আকস্মিক এ সফরের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। অনেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাইর থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের এটাই মানিকগঞ্জে তার প্রথম সফর। জেলা বিএনপির সদস্য ও মানিকগঞ্জ জজকোর্টের পিপি আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার নয়া দিগন্তকে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জেলার শিবালয় উপজেলার কাশাদহ এলাকায় নিজ হাতে খাল খনন করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তা ছাড়া সদর উপজেলার নবগ্রাম গ্রামকে তিনি নিজের গ্রাম ঘোষণা করেছিলেন। স্থানীয় জনগণ এই গ্রামে কিছু জমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে লিখে দিয়েছিলেন। তিনি ১৯ বার মানিকগঞ্জ সফর করেছিলেন।

জুলাই শহীদ জাহিদের মাকে চাকরির আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বাসস জানায়, ক্যান্সারে আক্রান্ত সন্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা।

গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ক্যান্সার আক্রান্ত মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানকে সাথে নিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব মো: সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। একই সাথে মা ফাতেমা তুজ জোহরাকে চাকরির আশ্বাস দেন তিনি।

সুজন মাহমুদ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ফাতেমার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পর জানতে পারেন, তার ছোট ছেলে জিসান ক্যান্সারে আক্রান্ত। এর সাত মাস পর স্বামীকেও হারান তিনি। স্বামী-সন্তান হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন ফাতেমা। এ সময় অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তখন থেকেই আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের তত্ত্বাবধানে জিসানের চিকিৎসা করা হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি আতিকুর রহমান রুমনের মাধ্যমে জিসানের চিকিৎসার খোঁজ নিতেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানেই চলছে জিসানের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থাপনা।

শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় : সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনের বিরতির ফাঁকে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঢাকার নটর ডেম কলেজ, ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের শতাধিক শিক্ষার্থীর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো: সুজাউদ্দৌলা।

তিনি বলেন, বিকেলে সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি তাদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেছেন, লেখা-পড়ার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে নিজেদেরকে দক্ষ করে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীরা সংসদ অধিবেশন পর্যবেক্ষন ছাড়াও সংসদের লাইব্রেরি ঘুরে দেখেছেন। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার (দিপু) মাধ্যমে রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ মোট ৬৯ জন, নটর ডেম কলেজের ৪৩ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষকসহ ৫৩ জন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের চারজন, ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের বিদেশী শিক্ষার্থীসহ আটজন এবং সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের মাধ্যমে ১৮ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশন পর্যবেক্ষণে আসেন।