ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত গণহত্যা বন্ধ ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রগঠনের দাবিতে ঢাকায় ‘মার্চ ফর গাজা’ নামে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে গাজার গণহত্যা বন্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলের চেয়ে বাংলাদেশের এই কর্মসূচি ছিল চোখে পড়ার মতো। লাখ লাখ শান্তিকামী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত হয়ে গাজাবাসীর পক্ষে তাদের সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেছে। জানিয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রগঠনের আহ্বান।
ঢাকার কর্মসূচি থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে- গাজায় গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ, ইসরাইলের গণহত্যার বিচার, মুসলিম নেতাদের ইসরাইলের সাথে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ, গাজার জনগণকে চিকিৎসা, খাদ্য, আবাসন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাংলাদেশী পাসপোর্টে ‘একসেপ্ট ইসরাইল’ শর্ত পুনর্বহাল, ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল, জায়নবাদী কোম্পানির পণ্য বর্জনের নির্দেশনা প্রদান প্রভৃতি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের নির্বিচার হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত সোয়া লাখ মানুষ। ইউনিসেফের হিসাবে নিহতদের মধ্যে ১৫ সহস্রাধিক শিশু। ৩৪ সহস্রাধিক শিশু আহত।
গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। পরে ইসরাইলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ১৮ মার্চ আবার হামলা শুরু করে।
জাতিসঙ্ঘ, ওআইসি কিংবা বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা হরহামেশা মানবাধিকারের কথা বললেও গাজায় মাসের পর মাস ইসরাইলের গণহত্যা বন্ধে তারা পুরোপুরিই ব্যর্থ অথবা অনিচ্ছুক।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বলেছিলেন, তিনি যুদ্ধ বন্ধ করবেন। কিন্তু তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্প বরং গাজাবাসীকে গাজা থেকে উৎখাত করতে চান। এই চক্রান্ত অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালালেও প্রভাবশালী আরব রাষ্ট্রগুলোর নীরবতাও বিশ্বের শান্তিকামী মানুষকে চরমভাবে হতাশ করেছে।
বাংলাদেশ ফিলিস্তিন সমস্যার দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নীতিতে বিশ্বাস করে। ফিলিস্তিনের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক থাকলেও ইসরাইলের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। এ কারণে গাজাসহ ফিলিস্তিনে ইসরাইলের যেকোনো আগ্রাসনের নিন্দা জানায় বাংলাদেশ। কিন্তু গত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের অপচেষ্টা চালিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ‘একসেপ্ট ইসরাইল’ শব্দটি বাদ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনার সময়ে ইসরাইলের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কও ছিল ওপেন সিক্রেট।
মহাকবি আল্লামা ইকবাল ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে বলেছিলেন, তোমাদের রোগের চিকিৎসা জেনেভায়ও নেই, লন্ডনেও নেই; ইংরেজদের প্রাণশক্তি ইহুদিদের করতলে।
আল্লামা ইকবালের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরা বলতে চাই, ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান ওয়াশিংটন কিংবা জাতিসঙ্ঘ আপনা আপনি করে দেবে না। ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানে আরবদেরকে তথা মুসলিম বিশ^কেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। ওআইসিকে সক্রিয় ও সোচ্চার হতে হবে। ছিনিয়ে আনতে হবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার লাল সূর্য। আর তাদের এ প্রচেষ্টায় সমর্থন থাকবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের শান্তিকামী অগণিত মানুষের।