পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে ভাটার সময় প্রায়ই ডুবোচরে ফেরি আটকে যায়। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সহযোগী একটি দৈনিকের পিরোজপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবরে জানা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি আটকে থাকায় নানাভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।
খবরে বলা হয়, এই রুটে চলাচলকারী ফেরি প্রায়ই মাঝ নদীতে আটকে যায়। বিশেষ করে শীতের মৌসুমে বলেশ্বর ও কচা নদীর মোহনায় চর জেগে ওঠে। ভাটার সময় ডুবোচরের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। নদী পার হয়ে যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। শহর থেকে মালামাল নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের মালামাল পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। এতে ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং দাফতরিক জরুরি কাজে যারা এ পথে যাতায়াত করেন তাদের অসুবিধা ও বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। অনেকসময় তা বর্ণনাতীত হয়ে ওঠে। এসব দুর্ভোগ লাঘবে মনে হয় কোথাও কেউ নেই।
ঢাকার সাথে পিরোজপুরের যোগাযোগ রক্ষা করে চরখালী ফেরি। মংলা বন্দরের সাথে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে ফেরিটি। কিন্তু এগুলো চরে আটকে গেলে কোনোভাবেই যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না। এ পথে ট্রলারে যাত্রী পারাপার করেন আবদুর রহমান। তিনি বলেন, দিনে দু’বার নদীতে ভাটা হয়। এ সময় ডুবোচর জেগে যায়। দুই ভাটায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এ কারণে ট্রলারচালকরা পর্যাপ্ত আয়রোজগার করতে পারে না। সংসার পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে গেছে।
প্রতিদিন এই রুটে কয়েক হাজার গাড়ি চলাচল করে। ভাটার সময় সিরিয়াল লেগে যায়। ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এ সমস্যার সমাধান করা জরুরি। ট্রাকচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডুবোচরে ফেরি আটকে গেলে খুবই বিপাকে পড়ি। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’
এ সমস্যার একমাত্র সমাধান নিয়মিত খননের মাধ্যমে নদীর নাব্য ঠিক রাখা। কিন্তু তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বছরের পর বছর।
যাত্রীরা দ্রুত নদীটি খনন করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী যাত্রীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ড্রেজিংয়ের জন্য বিআইডবিøউটিসির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। টগরা-চরখালী ফেরিঘাটের দুই পাশে নদী খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ডিভিশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তারা শিগগিরই ব্যবস্থা নেবে।
দেশের পত্রপত্রিকার খবরে প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন নদীর নাব্য সঙ্কটের কথা। দক্ষিণাঞ্চলের নদীবিধৌত পিরোজপুর বৃহত্তর বরিশালের অংশ। পিরোজপুরের ডুবোচরে ফেরি আটকে পড়ার সমস্যা নতুন নয়। দীর্ঘ দিন ধরেই এ সমস্যা চলে আসছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়; কিন্তু তা লাঘবে কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এতে প্রতিদিন হাজার লোককে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অবিলম্বে পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং সম্পন্ন করে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হোক।