শরিফ ওসমান হাদি চিরবিদায় নিলেন। বর্ষা বিপ্লবের পর আবার বাংলাদেশ কেঁপে উঠল। আধিপত্যবাদী খুনি ফ্যাসিস্ট মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে সারা দেশের তরুণরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। এ অশুভ শক্তি বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ নিরাপদ উত্তরণকে যেকোনো মূল্যে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। হাদি ছিলেন এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে অসাধারণ এক বিপ্লবী। ৫ আগস্টে পাওয়া স্বাধীনতাকে রক্ষায় আরেকটি আন্দোলন গড়ে তোলেন তিনি। তার সৃষ্ট ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হয়ে সাংস্কৃতিক জাগরণের নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বল্প সময়ে দেশপ্রেমিকদের আগ্রহের কেন্দ্রে আসেন। এতে করে তিনি আধিপত্যবাদীদের নিশানা হন। খুনির বুলেট ৩৩ বছর বয়সী হাদির জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিলেও তিনি এ দেশের মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে দেশপ্রেমিক কার্যকর নেতাদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে প্রথম সফল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বর্তমান বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ভারতের প্রভাব-বলয় থেকে বেরিয়ে এসে ক্রমে তিনি বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার দিকে ধাবিত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আধিপত্যবাদী শক্তি তাকে হত্যার মাধ্যমে থামিয়ে দেয়। ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে হাদিও দেশে একটি বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতির ধারা গড়তে সচেষ্ট হন। তার পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি রক্ষা, অপরাধীদের বিচার, আহত-নিহতদের স্বীকৃতির জোরালো আওয়াজ তুলেছিলেন। প্রতিবেশী দেশের আগ্রাসন ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে থাকা হুমকি মোকাবেলায় উচ্চকিত হন।
গত এক মাসে দেশী-বিদেশী নম্বর থেকে ৩০ বার হাদিকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। দেশবিরোধী শক্তি তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে বলে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি তা জানিয়েছিলেন। জীবননাশের শঙ্কা সত্তে¡ও ইনসাফের লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবেন না বলে তাতে তিনি উল্লেখ করেন। এই সুযোগই নিয়েছে খুনিচক্র। হুমকিদাতারা সফল হয়েছে, খুনিরা নির্বিঘেœ পালিয়েও যেতে পেরেছে। বিপ্লবের সম্মুখসারিতে থাকা ছাত্রনেতাদের প্রায় সবাই একই ধরনের হুমকি পেয়েছেন। তাদের জীবন নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। তাদের জীবনরক্ষায় রাষ্ট্র উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি। জুলাই আন্দোলনের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া অনেকে একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন। হাসনাত আবদুল্লাহকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তা। এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে তিনি হাসনাতকে হাদির মতো মাথায় নয়, ঘাড়ে গুলি করতে খুনিচক্রকে উৎসাহিত করেছেন। প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়ার পরও এর কোনো প্রতিকার মেলেনি। তাই বিপ্লবীদের জীবন চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে।
হাদির মৃত্যুর পর সরকারপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। দেশের প্রধান সব রাজনৈতিক দল ও নেতারা শোক জানিয়েছেন। হাদির খুন ঘিরে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বিষয়। এ ঐক্য দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে হলে জুলাই বিপ্লবের নেতাদের রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে যত মতবিরোধ থাকুক না কেন, এ ব্যাপারে সবাইকে ঐকমত্য পোষণ করতে হবে। কারণ, সবার অভিন্ন শত্রু আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিস্টরা একজোট, তারা বিপ্লবীদের হত্যা করে বিপ্লব ব্যর্থ করে দিতে চায়। এ অবস্থায় সবাই মিলে বিপ্লবের অগ্রসেনানীদের নিরাপত্তা প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে।