সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় গরিব, বঞ্চিতদের খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়। বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত প্রার্থীরা সহায়তা পায় না। এগুলো চলে যায় একশ্রেণীর প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কব্জায়।
একটি সহযোগী দৈনিকের উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের উখিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের গরিব, অসহায় ও হতদরিদ্রদের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে সরকারের বরাদ্দ আত্মসাৎও করা হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন। কারো কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে টাকা, আবার উপকারভোগীরা চাল না পেলেও যাচ্ছে সচ্ছল ব্যক্তিদের ঘরে।
ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ চাল মূলত হতদরিদ্র পরিবারের জন্য দেয়া হয়। চাল বিতরণে দেখা গেছে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের। এলাকার কোনো দরিদ্র ব্যক্তি কার্ডও পায়নি। তারা পাঁচ-দশটি কার্ড নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে প্রতিটি ৩০০-৩৫০ টাকা করে। চৌকিদার, মেম্বার ও চেয়ারম্যানরা মিলেমিশে একজনকে একাধিক কার্ড দিয়ে সিন্ডিকেট করে ওই চাল সংগ্রহ করে কালোবাজারে বিক্রি করছেন। পরিষদের চাল বিতরণে দায়িত্ব পালনরত ট্যাগ অফিসারও এসব অনিয়মের সাথে জড়িত। রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একজন কার্ড বিক্রি করে দিয়েছে তিনটি, যার মূল্য হিসেবে দিয়েছেন এক হাজার ১০০ টাকা। পরিষদের ভেতরে দেখা যায়, এক ব্যক্তি এক কোনায় কার্ড দিচ্ছেন পাঁচটি করে, পাঁচটি কার্ডে ৫০ কেজির এক বস্তা। সেটি বাইরে বিক্রি করে এক হাজার ৮০০ টাকায়। সেটি বিক্রি করে আবারো পাঁচটি কার্ড নিতে দেখা যায়। হলদিয়া পালং, রত্নাপালং, জালিয়া পালং ও পালংখালি ইউনিয়ন পরিষদের চিত্র একই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাওছার আহমেদ জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতি দরিদ্র, অসহায়দের জন্য ভিজিএফ চাল কার্ড-প্রতি ১০ কেজি করে বরাদ্দ দেয়া হয়। রাজাপালং ইউনিয়নে সাত হাজার ৭৫২টি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নে চার হাজার ৫৫০, রত্নাপালং ইউনিয়নে তিন হাজার ৩০৮, জালিয়াপালং ইউনিয়নে ছয় হাজার ৩৪ ও পালংখালি ইউনিয়নে চার হাজার ৫৫০ সহ মোট ২৭ হাজার ৯৮৬ জনের কার্ডে ২৭৯.৮৬০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়নে চাল বিতরণ সম্পন্ন করেছে। অনিয়মের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কার্ড বিতরণ জনপ্রতিনিধির কাজ, সেখানে আমাদের হাত নেই।
জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার হচ্ছেন জনপ্রতিনিধি। তারা জনগণের স্বার্থর্ রক্ষা না করলে জনপ্রতিনিধি হতে পারেন না। তাদেরকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের চাল বিক্রি করে দেয়া তাদের কাজ নয়। আমরা এ দিকে সরকারের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সারা দেশেই জনপ্রতিনিধিদের একই অবস্থা। সরকারকে তাই কঠোর হওয়া দরকার। অন্যথায় জনগণ শুধু বঞ্চিত হতেই থাকবে।