আওয়ামী লীগ একা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করেনি। এ জন্য কিছু দলের পূর্ণ সমর্থন-সহযোগিতা ছিল। বিশেষ করে পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচনে এ কাজে বামপন্থী কয়েকটি দল ও জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থন জুগিয়েছে। দেশে ফ্যাসিবাদের পতনের পর হাসিনা ও তার দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দলটির নেতারা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। কিছু বাম দলের নেতারাও বিচারের মুখোমুখি; কিন্তু ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে বড় সহযোগী জাপার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অথচ দলটির নানা পর্যায়ের নেতাকর্মী দুর্নীতি-অনিয়ম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিলেন। তাদের কৃত অপরাধের শাস্তি দেয়া না হলে দেশে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এখনো দলটির কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদের সমর্থনের ছায়া স্পষ্ট।
শেখ হাসিনার পতনের পর জাপা নানাভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম ব্যাহতের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দলটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অথচ জুলাই অভ্যুত্থানের বিপুল রক্তের ওপর স্থাপিত ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। লক্ষণীয়, শুরু থেকে আওয়ামী লীগ এ সরকারের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি গুজব ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই অপশক্তি চায় না অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করুক। কারণ দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করলে ফ্যাসিবাদী শক্তির এ দেশে আর রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। জাপার কর্মকাণ্ড সরকারের প্রতি অসহযোগিতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে সমর্থন অব্যাহত রাখার ইন্ধন রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে জাপা নানাভাবে উসকানি দিচ্ছে। এর সর্বশেষ নজির গণ অধিকার পরিষদের প্রধান নুরুল হক নুরুর ওপর বীভৎস হামলার ঘটনা। যৌথ বাহিনীর কিছু সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক ভিপিকে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছেন। হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিনি। বেদম প্রহারে তার নাকের হাড় ভেঙেছে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
জন্মলগ্ন থেকে জাপার কর্মকাণ্ড স্পষ্ট, দলটির চালিকাশক্তি ভারত। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে কূটকৌশলে জাপাকে ব্যবহার করেছে দিল্লি। ভারতের প্রেসক্রিপশনে জাপাকে বিরোধী দলে রেখে হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘায়িত করা হয়। জাপা না থাকলে অওয়ামী লীগ এত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে পারত না।
চব্বিশের ডামি নির্বাচনের আগে ভারতের হয়ে জাপার ভূমিকা একেবারে নগ্নভাবে ধরা পড়ে দেশবাসীর কাছে। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তখন ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে জানান, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তার খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তবে কার কার সাথে এবং কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। শুধু তারা (ভারত) অনুমতি দিলে বলতে পারবেন বলে জানান। এভাবে বাংলাদেশের স্বার্থকে একটি দেশের ইন্ধনে বিকিয়ে দিয়েছে জাপা। এতে প্রমাণ হয়, দলটির জবাবদিহি দেশের মানুষের প্রতি ছিল না। ছিল প্রতিবেশী দেশের স্বার্থে। একে দেশদ্রোহিতা ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে।
ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে জাপাকে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা অধরা থেকে যেতে পারে।