আজ পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল। মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জন্মদিন। একই দিন তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাই দিনটি নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে আছে বিশেষ আবেগ। প্রতি বছর মুসলিম সমাজে দিনটি পালন করা হয়ে থাকে শেষনবী সা:-এর আদর্শ স্মরণ করে। মানবজাতির মুক্তির জন্য পরিপূর্ণ একটি জীবনবিধান আল্লাহ থেকে নাজিল হয়েছে। সেটি হলো সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ আল কুরআন। পবিত্র গ্রন্থটি তিনি নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করে মানুষের মধ্যে অনুপম নিদর্শন হয়ে আছেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় হতাশা ও বেদনার কথা হলো- আমরা দিবসটি আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত করেছি। যার প্রতিফল ঘটেছে দিবসটি আড়ম্বরপূর্ণ উদযাপনে। এখানে নবীজি সা:-এর আদর্শ কতটুকু প্রতিফলিত হচ্ছে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

নবীজীবন অর্থাৎ কুরআনের শিক্ষা হচ্ছে- নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে মানবতার কল্যাণে আজীবন নিয়োজিত হওয়া এবং রাব্বুল আলামিন আল্লাহর নির্দেশিত সত্য ও ন্যায়ের পথকে নিজের জীবনের পরম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা। তবে দুর্ভাগ্য হলো- বর্তমান মুসলিম উম্মাহর সাথে এর মিল কম পাওয়া যায়।

কুরআনের শিক্ষা হলো- আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে কোনো অবস্থায়ই মাথা নোয়ানো যাবে না। মুহাম্মদ সা: প্রচার করেছেন, মানুষের প্রকৃত মর্যাদা স্রষ্টার সার্বভৌমত্ব মেনে আল্লাহর নির্দেশিত পথে সারা জীবন নিষ্ঠার সাথে চলতে হবে। মানুষ ইহকালে যে কাজ করবে, পরকালে আল্লাহর কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এ জন্য প্রতিফল পাবে। যারা আল্লাহ, তাঁর প্রেরিত আসমানি কিতাব, নবী-রাসূল, আখিরাত এবং শেষবিচারের দিনের প্রতি বিশ্বাস রেখে ন্যায় ও কল্যাণের পথ অনুসরণ করবে, তাদের জন্য আছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মহাপুরস্কার। তারা পাবেন শাশ্বত শান্তিময় স্থান বেহেশত বা জান্নাত। আর যারা সত্যের পথে চলবে না। প্রবৃত্তির দাসত্ব করবে, তাদের জন্য আছে চরম শাস্তির চিরন্তন স্থান- জাহান্নাম।

মুহাম্মদ সা: প্রতিটি কাজ আনজাম দিয়েছেন কুরআনের আলোকে। লক্ষ্য ছিল একটিই- আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। তাঁর আগমনের কয়েক বছরের মধ্যে আরব উপদ্বীপের মানুষ আল্লাহতে মাথা নত করেছিলেন। ইসলামের মহত্ত্ব আরব ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে সারা দুনিয়ায়। নবীজি সা: মানুষের আস্থাভাজন ছিলেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অসি হাতে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধবন্দীদের দিয়েছেন মানবাধিকার। অঙ্গীকার রক্ষায় ছিলেন শতভাগ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আল্লাহ তাঁকে মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ আদর্শ হিসেবে আমাদের কাছে উপস্থাপন করেছেন। আদর্শ ও ন্যায়ের পথে মুসলিমরা যখন ছিলেন অঙ্গীকারবদ্ধ, তখন সাফল্য তাদের হাতের মুঠোয় এসে ধরা দিয়েছিল। কিন্তু মূল আদর্শ কুরআন বাস্তবায়নে তারা যখন গাফেল হয়ে পড়েন, তখন থেকে মুসলমানদের পতনের সূচনা। আজ তারা আদর্শচ্যুত হয়ে পতনের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। আমরা যদি আল্লাহর শেষনবী মুহাম্মদ সা:-এর প্রতি অবতীর্ণ চিরন্তন আদর্শ কুরআনের দিকে ফিরে যেতে না পারি, তবে এ অধঃপতন থেকে উত্তরণের আর কোনো বিকল্প নেই।

কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করলে আজকের দুনিয়ার অন্যায়, অশান্তি, অনাচার, অবিচার, দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের অবসান হওয়ার পথ তৈরি হবে।