ইসলামী ব্যাংকের ১৪১ কোটি টাকা গায়েব দুদকের ৩ মামলার অনুমোদন
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ আসামি ২৯
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং দুবাই, যুক্তরাজ্য ও আমেরিকা পাচারের অভিযোগে তিনটি মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই ৩ মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই মামলাগুলো অনুমোদন দেয়া হয়েছে। শিগগিরই মামলা চট্টগ্রামের দুদক কার্যালয়ে দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের টাস্কফোর্স সাইফুজ্জামান ইস্যুতে কাজ করছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচারক মো: মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের টিম অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে। তারা ইতোমধ্যে ৩০টি মামলা করেছে।
মামলাগুলো মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নাম সর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠান ইমিনেন্ট ট্রেডার্সের নামে ২০ কোটি টাকা, ভিশন ট্রেডিং কর্তৃক ২৫ কোটি টাকা, রিলায়েবল ট্রেডিংয়ের নামে ১৫ কোটি, প্রোগ্রেসিভ ট্রেডিংয়ের নামে ২৩ কোটি, ক্রিসেন্ট ট্রেডার্সের নামে ২৫ কোটি টাকা ও মডেল ট্রেডিংয়ের নামে ২১ কোটি টাকাসহ মোট ১২৯ কোটি আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানকে আসামি করা হয়েছে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারী ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।
অনুরূপভাবে ইউসিবির প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন লিমিটেড থেকে ৫২ কোটি টাকা, আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক এইচ এম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে ৫৫ কোটি টাকা, জুবিলী রোড শাখার গ্রাহক ওয়েল মার্ট লিমিটেডের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা, মহাখালী শাখার গ্রাহক সাইফ পাওয়াটেক ও ই-ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ইউসিবিএল ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার গ্রাহক আইকনএক্স সার্ভিস লিমিটেড থেকে ৬০ কোটি টাকাসহ মোট ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫ মামলা করা হয়। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং স্ত্রী রুকমীলা জামানকে এসব মামলার আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের চকবাজার, পোর্ট, পাহাড়তলী ও বহদ্দারহাট শাখা হতে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে ৪টি মামলা, ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে ৮টি মামলা ও ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৭ মামলা করা হয়।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই ইউসিবিএলের সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আরেক ভাই সাবেক পরিচালক ও ইসি কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী ওরফে রনি, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, সাবেক পরিচালক এম এ সবুর, হাজী ইউনুছ আহমদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী এবং রোকসানা জামান চৌধুরী।