ভারত ক্রমাগত সীমান্তে বাংলাদেশের প্রতি বৈরিতা অব্যাহত রেখেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর তা আরো বেড়েছে। অন্যান্য আক্রমণাত্মক আচরণের পাশাপাশি এবার তাদের নতুন অস্ত্র-পুশইন। তিন দিক দিয়ে ঘিরে রাখা ভারত ঠাণ্ডামাথায় নিয়মিত বিরতিতে বাংলাভাষীদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন। ভারতের পক্ষ থেকে করা উসকানিমূলক তৎপরতা নিয়ে এবার বিজিবিকে কিছুটা প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে। উত্তরে বিএসএফের সুর কিছুটা নরম হলেও আগের মতো গৎবাঁধা জবাব দিচ্ছে। বাংলাদেশের দরকার শত্রুতামূলক সীমান্ত আচরণের অবসান। সেই ধরনের নতুন কোনো কার্যকর অঙ্গীকার এবারো নেই।

হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ভারত একতরফা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ দিয়েছে। তথ্যপ্রমাণ ছাড়া শুধু গুজবের ওপর ভর করে এমনটি করেছে। এরপর যুক্ত হয় পুশইন। গত বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া সম্মেলনে বিজিবির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়। জবাবে বিএসএফ জানায়, এবার বৈধ উপায়ে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের হস্তান্তর করবে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে পুশইন শুরুর সাথে সাথে এ আহ্বান নয়াদিল্লিকে জানানো হয়েছিল। তখন ভারত একে পাত্তা দেয়নি।

বিএসএফ আনুষ্ঠানিক আলোচনায় পুশইন বন্ধ রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাও যে আগের অন্যান্য প্রতিশ্রুতির মতো রক্ষা হবে না, তা অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায়। এবারো আলোচনায় ঢাকার পক্ষ থেকে প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা। বরাবরের মতো বিএসএফের একই জবাব- সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ করতে ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিএসএফ ব্যবস্থা নিতে গেলে হত্যার ঘটনা ঘটে। বাস্তবতা হচ্ছে, হত্যার শিকারদের মধ্যে ফেলানীর মতো কিশোর-কিশোরীও রয়েছে। সম্প্রতি এমন অল্পবয়সী বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ, যার সাথে অপরাধের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রত্যেক সম্মেলনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দেয় বিএসএফ; কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি কখনো পালন করতে হবে- এমনটি বিবেচনা করে না। প্রথম সুযোগে সীমান্তের বাংলাদেশীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে।

অস্ত্র, মাদক, জালনোট, স্বর্ণ ও অন্যান্য চোরাচালান বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর। এর সাথে ফেনীর মুহুরীর চর ও ইছামতি, কালিন্দী, রায়মঙ্গল এবং হারিয়াভাঙা নদী এলাকায় বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কাজে বাংলাদেশীরা বিএসএফের বাধার মুখে পড়েন, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজ নিষিদ্ধ হলেও ভারত তা লঙ্ঘন করে। এসব ব্যাপারে সম্মেলনে বিজিবি এবার কিছুটা খোলাখুলি উপস্থাপন করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে নিয়ম মানার মৌখিক আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

দু’দেশের মধ্যে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের এটি ছিল ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলন। হাসিনা সরকারের সময় এসব সম্মেলন অর্থহীন প্রদর্শনী হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের সমস্যাগুলো নামমাত্র উপস্থাপন করা হতো। বিএসএফও মুখে মুখে কিছু প্রতিশ্রুতি দিত। কাজের ক্ষেত্রে কিছু অর্জিত হতো না। এখন বাংলাদেশে স্বাধীন সরকার রয়েছে। সুতরাং বিএসএফের দেয়া অঙ্গীকারগুলোর প্রতিফলিত ঘটছে কি না তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এভাবে সরকারি কোষাগারের অর্থ খরচ করে সীমান্ত সম্মেলন করার রীতি চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন।