সৈয়দপুরে সাদিক কায়েম
ইনসাফের দেশ গড়তে হ্যাঁ ও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে
Printed Edition
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সম্ভাবনা ও ইনসাফের নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে অবশ্যই হ্যাঁ ও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। তাহলেই আগামীর স্বপ্নময় বাংলাদেশে জনগণের সরকার গঠনের মাধ্যমে উন্নয়নের প্রকৃত ধারা প্রবাহিত হবে। নয়তো পতিত ফ্যাসিস্টের গ্যাঁড়াকলেই আবার প্রিয় জন্মভূমি নিপতিত হবে। এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি গতকাল সোমবার বেলা দেড়টায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন চালানোর শুরুতে শহরের পুলিশ বক্সের সামনে বক্তব্যে এ কথা বলেন।
এ সময় তার সাথে ছিলেন- রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল হুদা, ছাত্রশিবিরের নীলফামারী শহর সভাপতি মাজেদুর রহমান, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের ১১ দল সমর্থিত ও জামায়াইেসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, সৈয়দপুর শহর জামায়াতের আমির শরফুদ্দিন খাঁন, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী প্রমুখ।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর ধরে উত্তরবঙ্গবাসী অবহেলিত। সমূহ সম্ভাবনা থাকা সত্বেও শুধুমাত্র যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা না থাকায় পদে পদে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে রংপুরসহ এই জনপদের মানুষের। আমরা আর এই ধারা চলতে দিতে পারি না। এ কারণেই ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট তারুণ্যনির্ভর সৎ ও যোগ্য নেতাদের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা তাদের ভোট দিয়ে দেশপ্রেমিক সরকার গঠনের জন্য সংসদে পাঠাব। এরই ধারাবাহিকতায় নীলফামারীর এই আসনটিও ডা: শফিকুর রহমানকে উপহার দিতে হাফেজ আব্দুল মুনতাকিশ ভাইকে বিজয়ী করবো ইনশাআল্লাহ।
আর অবশ্যই গণভোটে হ্যাঁ কে বিজয়ী করব বৈষম্যহীন আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য। কারণ হ্যাঁ মানে আজাদি আর না মানে গোলামী, হ্যাঁ মানে হাদি আর না মানে মোদি। আমরা আমাদের দেশকে আর কখনই অন্য দেশের তাঁবেদারির জন্য কোনো দলকে লিজ দিতে চাই না। এ জন্য হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে গণমানুষের অধিকার নিশ্চিত করাসহ সার্বিক স্স্কংারের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য ভোটের দিন প্রথমেই হ্যাঁ ভোট নিশ্চিত করে তারপর ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় সিল মারব।
এর আগে সাদিক কায়েম ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুরে এসে পৌঁছেন। এরপর তিনি সৈয়দপুর শহরের হাতিখানা কবরস্থানে চব্বিশের শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের কবর জিয়ারত করেন। পরে সেখান থেকে পুলিশ বক্সের সামনে এসে গণভোটের হ্যাঁ এর পক্ষের ক্যাম্পেইন শুরু করেন। এ সময় শহরের শহীদ ডা: কিজরুল হক সড়ক ও শেরে বাংলা সড়কে গণসংযোগে অংশ নেন। পরে নীলফামারী-৪ আসনের অপর উপজেলা কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজ নির্মূল হবে : শ্যামপুরে ডাকসু ভিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনের শ্যামপুরে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না। জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের মাধ্যমে সমাজ থেকে সব ধরনের অরাজকতা নির্মূল করা হবে।
গত রোববার রাতে ঢাকা-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫৪ বছর ধরে জনগণ যাদের নেতা বানিয়েছে, তারা কেবল প্রতারণাই করেছে। তিনি বলেন, যারা অতীতে ধোঁকা দিয়েছে, তারা এখন আবার নতুন ‘কার্ড’ নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। দেশের মানুষ আর কোনো প্রলোভনে পা দেবে না। যারা নিজের দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারে না, তারা জাতির নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য নয়। তিনি মন্তব্য করেন, বুকে পাথর চাপা দিয়ে একটি দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বললেও তাদের আসল অবস্থান ‘না’ এর পক্ষে। তারা চায় জনগণকে গোলাম বানিয়ে রাখতে।
ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও শত নির্যাতনের মুখেও জনগণের পাশ থেকে সরে যায়নি। তিনি স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেন, এই এলাকায় কোনো সরকারি বা মানসম্মত বেসরকারি হাসপাতাল নেই। গ্যাস সঙ্কট, অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা এখানকার প্রধান সমস্যা। সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বই পারে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-৪ আসনের অবহেলিত জনপদকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কেউ এক পয়সার দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেনি। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এমপি-মন্ত্রীরা শাসক নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে।
ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহিম জীবনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।